![]()
পটুয়াখালী: মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারুককে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাঁদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
এর আগে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারুক অভিযোগ করেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মহিপুর বাজার থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যান। পরে কলাপাড়ায় নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ফারুকের অভিযোগ, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। তিনি কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম, রাশেদসহ ১০–১৫ জনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ আনেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক দাবি করেন, তাঁকে তুলে নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। পরে কলাপাড়ার একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। রাত ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ফারুক আরও দাবি করেন, নির্যাতনের সময় তিনি অভিযুক্তদের কাছে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি তাদের পা ধরে আব্বা বলে ডেকেছি। বলেছি, আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ—এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। তারপরও তারা আমাকে ছাড়েনি।’
তবে বহিষ্কৃত দুই নেতা ফারুকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আমিরুল ইসলাম ফাহিম বলেন, ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মাসুদ রানাও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওয়াকিটকি হাতে এক ব্যক্তির সঙ্গে মাসুদ রানাকে দেখা গেছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে ভিডিওটির সত্যতা এবং এতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার। তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বহিষ্কারাদেশের ফলে অভিযোগে নাম আসা কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের দুই নেতার সাংগঠনিক পদ হারানোর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে বহিষ্কারাদেশে নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা বা মামলা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ২২:০২:২৪ ১৯ বার পঠিত | ● কলাপাড়া ● ছাত্রদল ● দুই নেতা ● বহিষ্কার