ঢাকা    সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রচ্ছদ » ঢাকা » আড়াইহাজারে ৫ কোটি টাকার বন্ডের সুতা জব্দ, গোডাউন মালিক আটক

আড়াইহাজারে ৫ কোটি টাকার বন্ডের সুতা জব্দ, গোডাউন মালিক আটক


আড়াইহাজার ( নারায়ণগঞ্জ ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬


আড়াইহাজারে ৫ কোটি টাকার বন্ডের সুতা জব্দ, গোডাউন মালিক আটক

নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজারে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ভ্যাটবিহীন ৪০০ বস্তা ৮০ কাউন্টের সুতা জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় রোববার ভোরে জাহাঙ্গীর আলম (৫৫) নামে এক গোডাউন মালিককে আটক করা হয়েছে। আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সবজেল হোসেন আটকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পুরিন্দা এলাকার হাজী আব্দুস সালাম মার্কেটে আড়াইহাজার থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। অভিযানে একটি গুদাম থেকে প্রায় ৪০০ বস্তা শুল্ক ও ভ্যাটবিহীন সুতা জব্দ করা হয়। পরে সুতা ব্যবসায়ী ও গোডাউন মালিক জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় মডার্ন টেক্সটাইলে পাঠানো একটি নসিমন থেকে প্রথমে বন্ডের কিছু সুতা আটক করা হয়। ওই ঘটনার সূত্র ধরে আড়াইহাজারের পুরিন্দা এলাকার জাহাঙ্গীর এন্ড ব্রাদার্স নামে ওই গুদামের সন্ধান পায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সুতা জব্দ করা হয়। জব্দ করা সুতার আনুমানিক মূল্য ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। জব্দ করা সুতার কার্টনে CHINA ORIGIN এবং CM80S/1-এর মতো পণ্যের পরিচিতি দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের কারখানার জন্য সরকারি শুল্ক-কর সুবিধায় আমদানি করা এসব বন্ডের সুতা নির্ধারিত ব্যবহারের বাইরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা নিষিদ্ধ।

অভিযোগ রয়েছে, শুল্ক-সুবিধায় আমদানি করা এসব সুতা খোলাবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে গোডাউনে মজুত করা হয়েছিল।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল নির্ধারিত রপ্তানিমুখী উৎপাদনে ব্যবহার না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। একই সঙ্গে শুল্ক-কর পরিশোধ করে কাঁচামাল আমদানি করা দেশীয় শিল্প অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে আটক সুতার বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। প্রকৃত আমদানিকারক, সরবরাহকারী এবং বন্ড সুবিধার আওতায় পণ্য খালাস ও পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে বন্ড ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহারের চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

তিনি বলেন, শুধু পণ্য আটক করাই যথেষ্ট নয়। পণ্যটি কার নামে আমদানি হয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্সের আওতায় এসেছে, কীভাবে গোডাউনে পৌঁছেছে এবং কোথায় যাওয়ার কথা ছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

শিল্পোদ্যোক্তাদের অভিযোগ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের পাশাপাশি সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলেও বন্ড সুবিধায় আমদানি করা সুতা ও অন্যান্য কাঁচামাল অননুমোদিতভাবে মজুত বা বাজারজাত করা হচ্ছে।

তাঁরা আটক সুতার প্রকৃত আমদানিকারক, বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান, সরবরাহকারী ও পরিবহন চেইন শনাক্তের দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আমদানি করা সুতার বিপরীতে কী পরিমাণ উৎপাদন ও রপ্তানি করেছে এবং তাদের বন্ড হিসাবের সঙ্গে আটক পণ্যের কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।

সুতার মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এই সুতা আমি নারায়ণগঞ্জ টানবাজার থেকে কিনে এনেছি। তবে এটি কোন পোশাকশিল্প কারখানার বন্ডে আমদানি করা হয়েছে, তা আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে মাধবদীতে। পরবর্তীতে এর গোডাউন আড়াইহাজারে পাওয়া যায়। অভিযানটি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করেছে। পুলিশ শুধু তাদের সহযোগিতা করেছে।’

আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সবজেল হোসেন বলেন, জব্দ করা সুতা ও আটক ব্যক্তি পুলিশের জিম্মায় আছে। এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। বিটিএমএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৯:০৪   ৭ বার পঠিত  | ●   ●