ঢাকা    সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রচ্ছদ » খুলনা » মৃত্যুর আগে ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা’র স্বীকৃতি চান মওলা বক্স

মৃত্যুর আগে ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা’র স্বীকৃতি চান মওলা বক্স


মাহমুদুল হাসান চন্দন, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া)
প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬


মৃত্যুর আগে ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা’র স্বীকৃতি চান মওলা বক্স

কুষ্টিয়া:১৯৭১ সালে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র ধরেছিলেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হয়ে সহ্য করেছেন মধ্যযুগীয় অমানুষিক নির্যাতন। বেয়োনেটের খোঁচায় স্থায়ীভাবে বিকলাঙ্গ হয়েছে শরীর। কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশক পরও মেলেনি ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা’র কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি। শরীরের প্রতিটি ক্ষতচিহ্ন ও পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এখন একটাই আকুতি—মৃত্যুর আগে যেন রাষ্ট্র তাঁকে ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা’র স্বীকৃতিটুকু দেয়।

৪ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেল ৫টায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই আকুল দাবি জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মওলা বক্স ও তাঁর পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৯৭১ সালে বিএলএফ (মুজিব বাহিনী)-এর অধীনে ভারতের উত্তর প্রদেশের তানডুয়া ও দেরাদুন সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে সরাসরি সম্মুখ সমরে অংশ নেন মওলা বক্স। ১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার খাড়ারা নামক স্থান থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর দালাল ও রাজাকারদের সহায়তায় তিনি এবং তাঁর সহযোদ্ধা শরাফ উদ্দীন পাকবাহিনীর হাতে বন্দি হন।

বন্দি অবস্থায় তাঁর ওপর চালানো হয় নৃশংস বর্বরতা। হানাদার বাহিনী তাঁকে টানা তিন দিন হাত-পা বেঁধে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে পিঠ ও মাজায় গুরুতর জখম করে। অমানবিক নির্যাতনের ফলে দীর্ঘ সময় অজ্ঞান থাকার পাশাপাশি তাঁর মাজা ও পিঠে স্থায়ী বিকলাঙ্গতা তৈরি হয়। পরে ভেড়ামারা ও দৌলতপুর সামরিক ক্যাম্প থেকে অলৌকিকভাবে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন এই বীর সন্তান।

বর্তমানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মওলা বক্সের নাম জাতীয় তালিকা (নং- ৩৩), মুক্তিবার্তা (নং- ০৪১১০৩০১৩২) এবং গেজেট (নং- ৮২০)-এ অন্তর্ভুক্ত হলেও তিনি কেবল সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত আছেন। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা পেলেও যুদ্ধকালীন ক্ষত ও স্থায়ী পঙ্গুত্ব নিয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে পরিবারের সদস্যরা জানান, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এবং ২০২৩ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যথাযথ প্রমাণাদিসহ আবেদন জমা দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর আবেদনপত্রটি গ্রহণ করলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আজও তা আলোর মুখ দেখেনি।

বার্ধক্যজনিত কারণে অত্যন্ত অসুস্থ মওলা বক্সের পক্ষে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁর পরিবার জানায়, জীবনের শেষ সময়ে এসে রাষ্ট্র যেন তাঁর আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করে। মৃত্যুর আগে তাঁকে ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মানী প্রদান করা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ০:০৮:২৪   ১৫ বার পঠিত  | ●   ●   ●