ঢাকা    সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রচ্ছদ » রংপুর » উলিপুরে রোপা আমনে মিলিবাগের আক্রমণ, ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষক

উলিপুরে রোপা আমনে মিলিবাগের আক্রমণ, ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষক


মোন্নাফ আলী,উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬


উলিপুরে রোপা আমনে মিলিবাগের আক্রমণ, ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষক

কুড়িগ্রাম: উলিপুরে রোপা আমন ধানের ক্ষেতে ব্যাপকভাবে মিলিবাগ ছাতরা পোকার আক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। কীটনাশক ও সার প্রয়োগ করেও পোকার আক্রমণ কমছে না। কৃষকদের অভিযোগ, খরা ও সময়মতো সার প্রয়োগ না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, অনাবৃষ্টি, জমির আর্দ্রতা কমে যাওয়া ও অতিরিক্ত আগাছার কারণে এ রোগ দেখা দিয়েছে। মিলিবাগের আক্রমণ দমনে ডায়াফেনথিউরন কীটনাশক ও সম্পূরক সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের।

গুনাইগাছ পূর্ব কালুডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মো. নুর ইসলামের ৩২ শতক জমির ধানক্ষেতে মিলিবাগ পোকার আক্রমণ হয়েছে। আক্রান্ত ধানগাছগুলোর পাতা হলদে হয়ে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। ওষুধ ছিটিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। তিনি বলেন, “মুই গরীব মানুষ ভ্যান চালে খাই অনেক ট্যাকা খরচ করে ধান কোনা নাগাইছি। কিন্ত যে হইলো বুঝি না। চারা গাছ গুলা মরি যাওছে। বিএস দেখি ঔষধ দিবার কইলো, ঔষধ দিনু কিছুই হইল না। ধান না হইলে খামো কি।” এমন হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

ধামশ্রেণী ইউনিয়নের যাদুপোদ্দার গ্রামের কৃষক রহিমুদ্দিন বলেন, সময়মতো সার দিতে না পারায় তাঁর ৩০ শতক জমির ধানক্ষেতে এ পোকার আক্রমণ হয়েছে। ওষুধ ও সার দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। তিনি বলেন, “কি যে গজব পড়ছে আল্লায় জানে। উপসহকারী কৃষি অফিসার কইছে ঔষধ, সেচ দিয়ে ভাল না হলে আক্রান্ত গাছ গুলো কেটে ফেলতে। কিন্ত আমার কাটতে মন চায় না। এখন আল্লাহ ভরসা।”

গুনাইগাছের আদর্শ কৃষক মো. নুর ইসলাম বলেন, কৃষকরা জমি চাষের সময় পটাশ সার না দিয়ে বেশি পরিমাণে ইউরিয়া দেওয়ায় এ রোগ দেখা দিয়েছে। যেভাবে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে উৎপাদনে বিরাট প্রভাব পড়বে।

উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ উঁচু জমির ধানক্ষেতে এ রোগ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টি কম হওয়া ও সময়মতো সার দিতে না পারায় পোকার আক্রমণ হয়েছে। ওষুধ ও সেচ দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি আমন মৌসুমে ২৪ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বৃষ্টি কম হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। কিন্তু অনাবৃষ্টি, জমির আর্দ্রতা কমে যাওয়া ও জমিতে অতিরিক্ত আগাছা হওয়ায় ছাতরা পোকার আক্রমণে ধানের মিলিবাগ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। হাতিয়া, বজরা, গুনাইগাছ, থেতরাই, ধামশ্রেণী ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের উঁচু জমির ধানক্ষেতে এ রোগ দেখা দিয়েছে। এ রোগ প্রতিকারে আক্রান্ত জমিতে ডায়াফেনথিউরন অথবা থায়ামেথক্রাম কীটনাশক, সম্পূরক সেচ দেওয়া এবং আক্রান্ত গাছগুলো কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গুনাইগাছ ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান বলেন, এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় উঁচু জমির রোপা আমন ধানের ক্ষেতগুলোতে ছাতরা পোকার আক্রমণে মিলিবাগ রোগ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের এ রোগ প্রতিকারে সেচ, কীটনাশক ওষুধ ছিটানোসহ আক্রান্ত ধানগাছগুলো কেটে ফেলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কৃষকরা গাছগুলো কেটে ফেলছেন না। ফলে পাশাপাশি জমিতেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শহীদুর রহমান বলেন, তিনি বজরা, তবকপুর, গুনাইগাছ ও থেতরাই ইউনিয়নের আক্রান্ত জমি পরিদর্শন করে কৃষকদের সেচ ও কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে একটি বড় বৃষ্টি হলে এ বালাই দ্রুত ধ্বংস হবে।

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৪৩:০৯   ৪ বার পঠিত  | ●   ●   ●