ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রচ্ছদ » ঢাকা » আলফাডাঙ্গায় খামার-জমিতে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের দাবি, পাওনা না পাওয়ার অভিযোগ

আলফাডাঙ্গায় খামার-জমিতে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের দাবি, পাওনা না পাওয়ার অভিযোগ


আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬


আলফাডাঙ্গায় খামার-জমিতে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের দাবি, পাওনা না পাওয়ার অভিযোগ

ফরিদপুর: আলফাডাঙ্গায় গরুর খামার পরিচালনা, জমি লিজ নিয়ে ঘাস ও ভুট্টা চাষসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় করার দাবি করেছেন মো. নাসিরুজ্জামান। তবে দীর্ঘদিন কাজ ও অর্থ ব্যয় করেও বেতন, পাওনা ও বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে পাওনা অর্থের বিষয়ে কথা বলায় মামলা, আইনি নোটিশ ও হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগও করেছেন নাসিরুজ্জামান।

বুধবার (৭ অক্টোবর) আলফাডাঙ্গা ডাকবাংলোসংলগ্ন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে নাসিরুজ্জামান জানান, ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর মোহাম্মদীয়া এলাকার এমডি মো. ইমামুল হক জনির ফোন পেয়ে তিনি ঢাকায় যান। পরে তাঁর প্রতিষ্ঠানে লজিস্টিক ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় একটি কোম্পানির পরিচালক ও গরুর খামার মালিক ইউসুফ আল আমিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।

নাসিরুজ্জামানের দাবি, পরবর্তীতে ইউসুফ আল আমিন তাঁর বাড়িতে গিয়ে গরুর খামার ও ঘাস চাষের কার্যক্রম দেখেন। এরপর তাঁকে খামার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। শুরুতে তিনি রাজি না হলেও বিভিন্ন আশ্বাসের পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। খামারের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হলে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে বলেও তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

নাসিরুজ্জামান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর খামারের কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় জমি লিজ নিয়ে ঘাস ও ভুট্টা চাষ শুরু করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, মালা এলাকায় ২১ একর এবং শুকুরহাটায় ২৫ একরসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি লিজ নেওয়া হয়। এসব জমির লিজের টাকা, ঘাস ও ভুট্টা চাষের খরচ, শ্রমিকের মজুরি, বীজ, জমি পরিষ্কার ও পরিচর্যাসহ বিভিন্ন খাতে তিনি প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন।

তাঁর অভিযোগ, খামার পরিচালনা ও কৃষিকাজে দীর্ঘ সময় ও অর্থ ব্যয় করলেও প্রত্যাশিত বেতন ও অন্যান্য পাওনা তাঁকে পরিশোধ করা হয়নি। এমনকি তাঁর ব্যয়ের অর্থও পুরোপুরি ফেরত দেওয়া হয়নি। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নাসিরুজ্জামান আরও বলেন, পাওনা ও আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তাঁর নামে আদালতে মামলা করা হয়েছে এবং পরে আইনি নোটিশও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাসিরুজ্জামান।

তিনি বলেন, জমিতে কৃষিকাজ পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে সার, বীজ, চাষাবাদ ও পরিচর্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ব্যয় ও কৃষিকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাগজপত্র, হিসাব-নিকাশ ও নথি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নাসিরুজ্জামান তাঁর করা ব্যয়ের হিসাব যাচাই, প্রাপ্য বেতন ও পাওনা নির্ধারণ, আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত এবং হুমকির অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন ও আইনানুগ সমাধানের দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ইউসুফ আল আমিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। মেসেজ দিলেও কোনো উত্তর দেননি।

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ২২:৩৯:৫৯   ১১ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●