![]()
ফরিদপুর: ইলিশ বিক্রির শেষ সময়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দেখা দিয়েছে ইলিশের সংকট। বুধবার রাত ১২টার পর থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। শেষ সময়ে মাছ কিনতে এসে অনেক ক্রেতাকেই হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে সরেজমিনে দেখা যায়, ইলিশের আশায় ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও অধিকাংশ মাছের দোকানে পর্যাপ্ত ইলিশ নেই।
শেষ সময়ে ইলিশ কিনতে বাজারে আসা অনেক ক্রেতা এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও পছন্দমতো মাছ পাননি। কোথাও অল্প কিছু ইলিশ থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। দামও ছিল অনেক বেশি। ফলে কেউ কেউ খালি হাতে ফিরেছেন।
তবে কয়েকজন ক্রেতা শেষ মুহূর্তে ইলিশ কিনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ওষুধ ব্যবসায়ী কাজী রায়হান অনেক খোঁজাখুঁজির পর ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞার আগে পরিবারের জন্য ইলিশ কেনার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বাজারে এসে দেখেন, ইলিশের সরবরাহ খুবই কম। কয়েকটি দোকানে খোঁজ করার পর শেষ পর্যন্ত মাছ পেয়েছেন।
বস্ত্র ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামও শেষ সময়ে ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি বলেন, ইলিশ কেনার জন্য বাজারে এলেও প্রথমদিকে মাছ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে খোঁজ করে মাছ পাওয়া গেছে। তবে চাহিদার তুলনায় বাজারে ইলিশের পরিমাণ অনেক কম বলে জানান তিনি।
বাজারে ইলিশ না পাওয়া কয়েকজন ক্রেতা জানান, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে শেষবারের মতো ইলিশ কেনার জন্য তারা বাজারে এসেছিলেন। কিন্তু রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ইলিশের সরবরাহ আরও কমে যায়। ফলে অনেকেই মাছ না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ সময়ে ইলিশের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতার চাপ ছিল বেশি। কিন্তু সেই তুলনায় মাছের সরবরাহ কম থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে। অল্প যে পরিমাণ ইলিশ বাজারে এসেছে, তা দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বুধবার (৮ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়সহ সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে শেষ সময়ে ইলিশ কেনার জন্য আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেলেও পর্যাপ্ত মাছ না থাকায় অনেককেই হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৩৪:২৫ ১৪ বার পঠিত | ● আলফাডাঙ্গা ● ইলিশ ● ঘাটতি ● বাজার