ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » লালমোহনে ১০ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ২৪ জন, হাসপাতালে ভর্তি ৩

লালমোহনে ১০ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ২৪ জন, হাসপাতালে ভর্তি ৩


জাহিদ দুলাল, লালমোহন ( ভোলা )
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


লালমোহনে ১০ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ২৪ জন, হাসপাতালে ভর্তি ৩

ভোলা: লালমোহন উপজেলায় ক্রমেই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শিশু থেকে বৃদ্ধ—কেউই রেহাই পাচ্ছেন না মশাবাহিত এ রোগ থেকে। প্রতিদিন জ্বর ও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। গত দেড় মাস ধরে উপজেলাটিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিলেও চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৪ জন। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন ৪৩ জন।

বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত তিনজন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগেও প্রতিদিন ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে আসছেন অনেকে। বহির্বিভাগের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার (ইউনানি) ডা. মো. ইউসুফ হোসেন জানান, প্রতিদিনই ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী আসছেন। অসচেতনতার কারণে অনেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে চান না। তবে যাঁরা পরীক্ষা করাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে অন্তত পাঁচজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। যাঁদের শারীরিক অবস্থা ভালো, তাঁদের বহির্বিভাগ থেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর যাঁদের অবস্থা খারাপ, তাঁদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোসা. সুরমা বেগম (৩০)। তিনি উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কর্তারহাট এলাকার বাসিন্দা। সুরমা বেগম বলেন, প্রথমে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খান। সপ্তাহখানেক পরও জ্বর না কমায় এবং শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ায় উপজেলা সদরে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিন দিন ধরে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসক ও নার্সরা নিয়মিত তাঁকে দেখতে আসছেন। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অধিকাংশ ওষুধ পাওয়া যায় না। ফলে প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে হাম, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েও অনেক রোগী ভর্তি হচ্ছেন। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১৯ জন। সেপ্টেম্বর মাসে হাম আক্রান্ত ৪৪ জন রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। একই মাসে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ১২১ জন এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৮১ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আবু মাহমুদ তালহা সাদী বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট থাকলেও বর্তমানে কর্মরতদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সব সময় সব ধরনের ওষুধ মজুত থাকে না। তবে যেসব ওষুধ মজুত রয়েছে, সেগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। কোনো ওষুধের ঘাটতি থাকলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম, টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। দিনে ও রাতে মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে মশারি, মশা প্রতিরোধক এবং শরীর ঢেকে রাখে—এমন পোশাক ব্যবহার করতে হবে। জ্বর হলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:০৮:৫৬   ৫ বার পঠিত  | ●   ●   ●