![]()
সারের ডিলার নিয়োগে ঘুষ, দুর্নীতি, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির নেতারা অর্থের বিনিময়ে, দলীয় পরিচয় ও আত্মীয়তার সূত্রে বিভিন্ন এলাকায় ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। ‘মজুত যদি চাহিদার চেয়ে বেশিই থাকে, তাহলে সারের জন্য কৃষকের হাহাকার কেন’—এ প্রশ্ন তুলে তিনি বিভিন্ন জেলায় ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কৃষিমন্ত্রীর, কিন্তু কথা বলছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা চেপে বসেছে। ডিলার নিয়োগে জেলায় গঠিত কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় তিনজনকে মনোনীত করা হয়। যোগ্য ব্যক্তিদের ডিলার হিসেবে নিয়োগের সুযোগই ছিল না। বিএনপির নেতারা টাকার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন।’
গোলাম পরওয়ারের দাবি, সরকারের অব্যবস্থাপনা, ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি, কালোবাজারে সার বিক্রি এবং চোরাচালানের কারণে দেশে সার সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ডিলার নিয়োগে শর্ত মানা হয়নি। রংপুরসহ কিছু এলাকায় বিএনপির দলীয় প্যাডে তালিকা দেওয়া হয়েছে। এ তালিকা থেকেই ডিলার নিয়োগ হয়েছে। টাকা নিয়ে দিনাজপুর ও রংপুরের বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিলার নিয়োগ হয়েছে।’
অভিযোগের সমর্থনে জামায়াতের সেক্রেটারি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরেন। এসব প্রতিবেদনের মধ্যে রয়েছে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও রংপুরের পীরগাছায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ১০ লাখ টাকা দিয়েও ডিলারশিপ না পাওয়ার দাবি, ভুয়া গোডাউন ও জাল চুক্তিনামা ব্যবহারের অভিযোগ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বরিশালে সংসদ সদস্য ও নেতাদের স্বজনদের ডিলারশিপ পাওয়ার খবর।
নীতিমালা অনুযায়ী, একটি পরিবারে একাধিক ডিলারশিপ পাওয়ার সুযোগ নেই। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দা হতে হয়। পাশাপাশি থাকতে হয় নিজস্ব গোডাউন ও আর্থিক সক্ষমতা। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নীতিমালা ভঙ্গ করে এক ইউনিয়নের বাসিন্দাকে অন্য জায়গায় সারের ডিলারশিপ দিয়েছে সরকার। কখনো সারের ব্যবসা না করেও অনেকে ডিলারশিপ পেয়েছেন। এ ছাড়া একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি ডিলারশিপ নিয়েছেন। ভুয়া গুদাম ও ভুয়া চুক্তিনামা দিয়েও ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দলীয় চাপের মুখে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাদেরও ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, দিনাজপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের নির্দেশনায় তালিকার শীর্ষে দলীয় নেতা-কর্মীদের রাখতে এবং জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের নাম বাদ দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। রাজশাহীর কয়েকটি উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তারা বিএনপির সংসদ সদস্যদের দেওয়া তালিকা থেকে ডিলার নিয়োগের কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি।
শুধু বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় সার সংকট হচ্ছে—মীর শাহে আলমের এমন বক্তব্য নাকচ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিএনপির ১৪ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় সার সংকট হয়েছে।’
ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রকাশ্যে যোগ্যতা মূল্যায়নের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগসহ ছয় দফা দাবি জানান গোলাম পরওয়ার।
তিনি অভিযোগ করেন, সার সংকট নিয়ে সরকার জাতিকে অসত্য তথ্য দিয়েছে। গত ৬-৭ মাসে সরকারের সর্বস্তরে দলীয়করণ ও দুর্নীতি এবং মন্ত্রীদের মিথ্যাচারে জামায়াত উদ্বিগ্ন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে নিজেদের সুবিধামতো সংবিধান সংশোধন করে ফ্যাসিস্টদের মতো সারা জীবন ক্ষমতায় থাকতে কর্তৃত্ববাদী সাংবিধানিক কাঠামো তৈরি করতে ব্যস্ত হয়েছে সরকার। এ জন্য সরকার চায় না যে বিরোধী দল সংবিধান সংস্কারে অংশগ্রহণ করুক।’
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে গণভোটে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে আগামী সংসদ অধিবেশনে সরকার বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ অনেকে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:০৯:১২ ৫ বার পঠিত | ● বিএনপি ● মিয়া গোলাম পরওয়ার ● সার ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি ● সার সংকট