ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: রাঙ্গাবালী উপজেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি বন্দোবস্ত নিয়ে তরমুজখেত তৈরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ জন্য ৪০০ থেকে ৫০০ ঝাউগাছ উপড়ে মাটি কেটে বেড়িবাঁধ ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাঙ্গাবালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বন বিভাগ।
পটুয়াখালী বন বিভাগের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আরিফ মীর, ছাত্রদল নেতা সাব্বির মীর, মানিক মোল্লাসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন উপজেলার কাউখালীর চরসাইনবোর্ড এলাকার সংরক্ষিত বনভূমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে ১০ হেক্টর জমিতে লাগানো ঝাউবাগানের গাছ খননযন্ত্র দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়। এরপর তরমুজ চাষের জন্য মাটি কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং জমির চারপাশে সীমানাপ্রাচীর দেওয়া হয়।
বন বিভাগ জানায়, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাধা দেন। তবে উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ওই জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার দাবি করে তাঁরা মাটি কাটা অব্যাহত রাখেন।
কাউখালী বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল আহমেদ খান বলেন, কাউখালীর চরসাইনবোর্ড এলাকায় ২০২২ সালে ৩০ হেক্টর জমিতে ঝাউগাছ রোপণ করে বন বিভাগ। গত শনিবার বিকেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই বনে প্রবেশ করে খননযন্ত্র দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ ঝাউগাছ উপড়ে ফেলেন। এরপর মাটি কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে তরমুজখেত তৈরির প্রস্তুতি নেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা বাধা অমান্য করে মাটি কাটা চালিয়ে যান। পরে জেলা কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে শনিবার রাতে তাঁদের বিরুদ্ধে রাঙ্গাবালী থানায় জিডি করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, একই ব্যক্তিরা ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর ওই বনাঞ্চলে খননযন্ত্র দিয়ে প্রায় ২৫ হাজার ঝাউগাছ নষ্ট করে মাটি কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছিলেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আসামি করে রাঙ্গাবালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করে বন বিভাগ। মামলাটি এখনো চলমান।
বনাঞ্চলের গাছ কাটা ও বনের মাটি দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়ে অভিযুক্ত আরিফ মীরের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, বন বিভাগ যে জমিকে বনভূমি দাবি করছে, সেটি তাঁরা উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে বৈধভাবে মাটি কেটে তরমুজখেত তৈরি করছেন। বন বিভাগ অহেতুক তাঁদের সঙ্গে ঝামেলা করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার জাহিদুল ইসলাম বনাঞ্চলকে খাসজমি উল্লেখ করে প্রতিবেদন তৈরি করেন। এরপর রাঙ্গাবালীর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকালে ওই বনাঞ্চলের জমি খাস দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নামে বন্দোবস্ত দেন। পরে এ ঘটনায় তহশিলদার জাহিদুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাঙ্গাবালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করে বন বিভাগ।
জেলা বন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া ওই বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে গত ৩ আগস্ট ও ১৫ অক্টোবর পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত চিঠি পাঠিয়েছেন পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান।
জাহিদুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসন যে জমি বন্দোবস্ত দিয়েছে, সেটি মূলত সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসনকে দুইবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা তিনি জানেন না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ‘বন বিভাগ, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তাঁদের দাবির স্বপক্ষে থাকা কাগজপত্র নিয়ে কার্যালয়ে আসতে বলেছি। কাগজপত্র যাচাই করে জমিটি বন বিভাগের হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিমের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল কাইয়ুমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, বন বিভাগ থেকে জেলা প্রশাসনকে পাঠানো চিঠিটি সেদিন তাঁর হাতে এসেছে। রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এবং তদন্ত করে জমিটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এন/এস
বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৩:১৮ ৩০ বার পঠিত | ● ঝাউগাছ উপড়ে ফেলা ● পটুয়াখালী বন বিভাগ ● বনভূমি বন্দোবস্ত ● রাঙ্গাবালী সংরক্ষিত বনাঞ্চল