ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ঝালকাঠি: উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া বন্দরের হলতা নদীর মোহনায় ঐতিহ্যবাহী দশোহরা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে বিষখালী নদীর তিনটি শাখা নদীর মিলনস্থল হলতা মোহনায় প্রতিবছরের মতো এবারও উপকূলীয় এলাকার কয়েক হাজার উৎসবমুখর মানুষ সমবেত হন। বিজয়া দশমীর শেষ বিকেলে দূরদূরান্ত থেকে যান্ত্রিক ট্রলারে দুর্গাপ্রতিমা নিয়ে এসে সন্ধ্যায় নদীর মোহনায় বিসর্জন দেওয়া হয়।
দশোহরা উপলক্ষে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে আমুয়া ইউনিয়ন পূজা উদযাপন কমিটির আয়োজনে আমুয়া বন্দরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দশোহরা উদযাপন কমিটির সভাপতি সঞ্জয় কুমার রায়। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জালালুর রহমান আকন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন নিজাম, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জাকির হোসেন গোলদার ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মন্নান তালুকদার।
বুধবার বিকেলে আমুয়ার হলতা নদীর মোহনায় গিয়ে দেখা যায়, দশোহরা উৎসব ঘিরে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। শত শত যান্ত্রিক ট্রলার ও নৌকায় চড়ে নাচ-গানের মধ্য দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব পালন করেন। উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ থেকে যান্ত্রিক ট্রলারে করে দুর্গাপ্রতিমা নিয়ে আসা হয়। প্রতিমাবাহী ট্রলারগুলো নদীর মোহনার চারপাশে ঘুরে ঢাকঢোল বাজিয়ে আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে উৎসব পালন করে। এতে সব ধর্মের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গৌতম বিশ্বাস গৌরাঙ্গ জানান, সরকারি-বেসরকারি কোনো সহায়তা না থাকায় আমুয়ার আড়াইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী দশোহরা উৎসবটি আগের তুলনায় অনেক ম্লান হয়ে আসছে।
মুক্তিযোদ্ধা নারায়ণ কাঞ্জিলাল জানান, আমুয়ার দশোহরা উৎসব প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো। সপ্তদশ শতকের শেষ দিকে এ এলাকার জমিদার রায় বিহারী লাল মিত্র বাহাদুর আমুয়া বন্দরে এ উৎসবের প্রচলন করেন। সেই থেকে আজও উৎসবটি চলে আসছে। এতে জারি, সারি, কবিগান ও নৌকাবাইচসহ নানা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া দশোহরা উপলক্ষে আমুয়া বন্দর ঘিরে মেলা বসে।
তিনি আরও জানান, নানা সংকটে উৎসবটি এখন কোনোমতে টিকে আছে। উপকূলীয় এলাকার অভ্যন্তরীণ খালগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়া ও খালে বাঁধ দেওয়ায় নৌ চলাচল কমেছে। ফলে আগের মতো নৌপথে প্রতিমা আনা সম্ভব হচ্ছে না। এতে উৎসবটির জৌলুশ অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে। পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে একদিন এ সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
আমুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নকিরুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি আমুয়ার দশোহরা ও বারদশোহরা উৎসব দেখে আসছেন। উপকূলীয় এলাকার হিন্দু-মুসলমানের মিলনমেলা হিসেবে এ উৎসব আজও পরিচিত। বর্তমান সরকার ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব টিকিয়ে রাখতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে উৎসবটি ধরে রাখতে সবার সক্রিয় ভূমিকা রাখা উচিত। কারণ, এ উৎসব আবহমান বাংলার সংস্কৃতির অংশ।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ১৬:২৭:২৩ ২১ বার পঠিত | ● আমুয়ার দশোহরা উৎসব ● ঐতিহ্যবাহী দশোহরা ● কাঁঠালিয়া ঝালকাঠি ● হলতা নদী মোহনা