![]()
খুলনা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) কাছে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করলেও নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মতিয়ার রহমান তাঁর ভাইয়ের মাধ্যমে ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে প্রচার করে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার, সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং টাকা ছাড়া কাজ না করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লুৎফর রহমান এবং ইউপি সদস্য আবুল কালাম ও সোহরাব হোসেনের অভিযোগ, মতিয়ার রহমান প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদের ১২ সদস্যের সমর্থনে একটি রেজুলেশন পাস করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, দফাদার মতিয়ার রহমানকে সংযতভাবে চলাফেরা করার অনুরোধ করায় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমানকে মারধর করতে যান। এ সময় অন্য ইউপি সদস্যরা তাঁকে রক্ষা করেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার তাপস মণ্ডলকে মারধর এবং দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে।
সাংবাদিক মিনহাজ উদ্দীন দীপুকে সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে কয়রা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া হতদরিদ্র ভাতাভোগীদের মাসিক ভাতার টাকা কৌশলে নিজের ও পরিবারের অন্য সদস্যদের মোবাইল সিমে উত্তোলন করার অভিযোগও রয়েছে মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণ থাকার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল বাকি বলেন, “বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মতিয়ার রহমান বলেন, “দফাদারের চাকরি করি, তাই কী হয়েছে? চাকরি না থাকলে থাকুক। আমি শিক্ষিত মানুষ। অ্যাডভোকেট পড়েছি, আইনজীবী হব। এ চাকরি না থাকলে কিছুই আসে যায় না।”
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪০:২১ ৭ বার পঠিত | ● কয়রা ইউনিয়ন পরিষদ ● কয়রা দফাদার মতিয়ার রহমান ● খুলনা ● চাঁদা দাবির অভিযোগ