![]()
ফরিদপুর: ভাঙ্গায় নুডলসের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে খাইয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার তিন প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ওই কিশোরীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এর দুই দিন পর ভুক্তভোগীর বাবা থানায় অভিযোগ করেন। অভিযুক্তরা হলেন সায়েম মোল্লা, রুবেল মাতুব্বর ও আকতার হোসেন। তাঁদের মধ্যে রুবেল মাতুব্বরকে আটক করে থানায় নিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ উঠেছে, গত ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) রাতে ঘটনাটি ‘মীমাংসার’ জন্য স্থানীয় একটি ইউনিয়নের কৃষক দলের সভাপতি মোস্তফা মাতুব্বর ও তাঁর অনুসারীরা সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠক শুরু হতেই ভুক্তভোগী কিশোরীর পক্ষের লোকজনের সঙ্গে আয়োজকদের হট্টগোল হয়। এ সময় গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়ে সালিশ ছেড়ে চলে যান ওই কৃষক দলের সভাপতি ও তাঁর অনুসারীরা।
কিশোরী ও তার পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন দিনের বেলায় মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে তার বাবাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় ভাঙ্গা থানা পুলিশ। পরে বাবাকে ছাড়িয়ে আনতে ওই দিন রাতে তাঁর মা ও ভাই থানায় যান। ফলে রাত ২টা পর্যন্ত কিশোরীটি আট বছরের ছোট ভাইকে নিয়ে ঘরে ছিল। এই সুযোগে প্রতিবেশী সায়েম মোল্লা, রুবেল মাতুব্বর ও আকতার হোসেন তাদের ঘরে ঢোকেন। এ সময় তাঁরা তিনজন কিশোরীকে বলেন, ‘তোর মা লুডুস পাঠাইছে। তুই রাইতে তো ভাত খাইস নাই।’ নুডলস খাওয়ার পরপরই জ্ঞান হারায় ভুক্তভোগী।
কিশোরীর বাবা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি থানা থেকে ছাড়া পেয়ে সকালে বাড়িতে এসে দেখি, আমার মেয়ে খালি বারবার বমি করতেছে। ঘুমন্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখান থেকে তার শারীরিক পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়।’
কিশোরীর পরিবারের দাবি, তাঁদের মেয়েকে অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়েছে। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
স্থানীয় সালিশের প্রত্যক্ষদর্শী পান্নু শেখ, সবুজ মিয়াসহ কয়েকজন জানান, কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে সালিশ শুরু হলে স্থানীয় কৃষক দলের নেতা ও তাঁর অনুসারীরা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে হট্টগোল শুরু হয়। পরে গ্রামবাসীর তোপের মুখে মোস্তফা মাতুব্বর ও তাঁর অনুসারীরা সেখান থেকে চলে যান।
এ বিষয়ে কৃষক দলের নেতা মোস্তফা মাতুব্বর বলেন, এক কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ নিয়ে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি ও গ্রামের লোকজন বসেছিলেন। এ সময় থানার ওসি তাঁকে ফোন করলে তিনি সালিশ বৈঠক ভেঙে দেওয়ার কথা বলে সবাইকে ১৫ মিনিট সময় দেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটি ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাঁর ওপর হামলা হলে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ সময় একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে কিশোরীকে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি আরও জানান, অভিযুক্ত তিন যুবকের মধ্যে রুবেল মাতুব্বরকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি পুলিশের তদন্ত চলছে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:০০:৫৬ ১২ বার পঠিত | ● ফরিদপুর ● ভাঙ্গায় কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ ● রুবেল মাতুব্বর