ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রচ্ছদ » ঢাকা » দোহারে সড়ক নির্মাণ ঘিরে হয়রানির অভিযোগ, দিনভর থানায় আটক ব্যক্তি

দোহারে সড়ক নির্মাণ ঘিরে হয়রানির অভিযোগ, দিনভর থানায় আটক ব্যক্তি


মাহবুবুর রহমান টিপু, ( দোহার )
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


দোহারে সড়ক নির্মাণ ঘিরে হয়রানির অভিযোগ, দিনভর থানায় আটক ব্যক্তি

ঢাকা: দোহার উপজেলায় এলজিইডির সড়ক নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আব্দুল মজিদ (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে দিনভর থানায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মিথ্যা অভিযোগে তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। পরে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

রোববার সকালে উপজেলার উত্তর গাজিরটেক এলাকায় সড়ক নির্মাণের স্থানে কে বা কারা গাছ ফেলে সরকারি কাজ বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় আব্দুল মজিদকে থানায় নিয়ে দিনভর আটকে রাখা হয়। পরে এলাকাবাসীর চাপে রাতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।

এ ঘটনায় গাজিরটেক এলাকার শেখ শমিরের ছেলে মোক্তার হোসেন, তাঁর স্ত্রী পলি আক্তার, ছেলে জিহাদ হোসেন ও রাহাত হোসেন, ইস্রাফিল, হোরমত আলী, কুব্বাত আলী এবং দোহার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হামিদুর রহমানকে দায়ী করা হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়। স্থানীয় আব্দুল মজিদের পৈতৃক সম্পত্তির কিছু অংশ দখল করে মোক্তার হোসেন বহুদিন আগেই একটি ভবন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে গাজিরটেকবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের ডিও লেটারের ভিত্তিতে ৯৬০ মিটার সড়ক নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় উপজেলা এলজিইডি দপ্তর। প্রকল্পের আওতায় সড়কের দুই পাশে আট ফুট করে বালু ফেলার কাজ শুরু হয়। একপর্যায়ে মোক্তার হোসেনের ভবনের একাংশ ও সীমানাপ্রাচীর সড়ক নির্মাণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয়রা উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মোক্তার হোসেনকে জমির দাম নির্ধারণ করে প্রকৃত মালিক আব্দুল মজিদকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। টাকা বুঝে পেলে আব্দুল মজিদ তাঁর জমির অংশ থেকে সড়ক নির্মাণের জন্য জায়গা ছেড়ে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এরপর মোক্তার হোসেন স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার যোগসাজশে দোহার থানার পুলিশকে ম্যানেজ করে ঘটনাটি সাজান। সরকারি সড়ক নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে আব্দুল মজিদকে ঘটনাস্থলে মারধর করে থানায় নিয়ে দিনভর আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।

একপর্যায়ে বিষয়টি সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজন জানতে পারলে তাঁরা দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিককে আব্দুল মজিদকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে জানা গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার রাতে দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজের জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডে মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে এসআই হামিদুর রহমানের সঙ্গে তাঁর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও পুলিশকে হেনস্তার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২১:৫১:৫০   ১৭ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●