ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » প্রথম কর্মদিবসেই দরপতন, টানা ছয় সপ্তাহ ধরে চলছে ধারা

প্রথম কর্মদিবসেই দরপতন, টানা ছয় সপ্তাহ ধরে চলছে ধারা


আজকের রূপান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬


প্রথম কর্মদিবসেই দরপতন, টানা ছয় সপ্তাহ ধরে চলছে ধারা

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে দরপতনের মধ্য দিয়ে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর ধারাবাহিকতা টানা ষষ্ঠ সপ্তাহে গড়িয়েছে। গতকাল রোববার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩৪ শতাংশ শেয়ারের দর বাড়লেও কমেছে সাড়ে ৫২ শতাংশের। এতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩২ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে নেমেছে।

সপ্তাহের প্রথম দিনে দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরুর এ ধারা শুরু হয়েছিল গত ২৭ সেপ্টেম্বর। এরপর ৪, ১১, ১৭ ও ২৫ অক্টোবর সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে বেশির ভাগ শেয়ারের দর ও সূচক কমেছে। তবে মাঝখানে ২০ সেপ্টেম্বর শেয়ারদর ও সূচক বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা বাদ দিলে সপ্তাহের প্রথম দিনের দরপতনের প্রবণতা চলছে গত ৯ আগস্ট থেকে। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ সপ্তাহের মধ্যে ১২ সপ্তাহেই একই চিত্র দেখা গেছে।

তবে ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, সপ্তাহের শুরুতে নাকি শেষে দরপতন হচ্ছে, তা আলাদা কোনো অর্থ বহন করে না। পুরো বাজারই মন্দার মধ্যে রয়েছে। বৈশ্বিক সংকট যেমন অর্থনীতিকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, তেমনি বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারও যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিতে পারছে না বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।

ডিএসইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল এ বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ৪৫০ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে বিক্রি করেছেন ৪৪২ কোটি টাকার শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে বিক্রি করেছেন প্রায় ২২ কোটি টাকার শেয়ার। ব্রোকার-ডিলার প্রতিষ্ঠানগুলো সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে বিক্রি করেছে আট কোটি টাকার শেয়ার। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অ্যাকাউন্ট থেকে মাত্র ১৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনা হয়েছে। বিপরীতে বিক্রি হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার শেয়ার।

ডিএসইর লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বীমা ও মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড খাত ছাড়া বাকি সব খাতের বেশির ভাগ শেয়ারের দর কমেছে। সবচেয়ে বেশি, সাড়ে ৪ শতাংশ দর হারিয়েছে পাট খাত। এ ছাড়া খাদ্য, সিমেন্ট এবং সেবা ও নির্মাণ খাতের শেয়ারগুলোর দরপতন ছিল অন্য খাতগুলোর তুলনায় বেশি। খাদ্য খাতের চারটি কোম্পানির শেয়ারদর বাড়লেও কমেছে ১৫টির। এতে এ খাতের শেয়ারের গড় দর কমেছে প্রায় আড়াই শতাংশ। সিমেন্ট এবং সেবা ও নির্মাণ খাতের ১০টি কোম্পানির মধ্যে সাতটির দর কমায় এ দুই খাতের গড় দরপতন হয়েছে ২ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া প্রকৌশল এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের শেয়ারগুলোর গড় দরও ১ শতাংশের বেশি কমেছে।

তবে বৃহৎ বাজার মূলধনি খাত ব্যাংকের লেনদেনযোগ্য ৩১টি কোম্পানির মধ্যে গতকাল ১৪টির শেয়ারদর কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে পাঁচটির। এতে এ খাতের শেয়ারের গড় দর কমেছে ১ শতাংশ। ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তাদের মতে, ব্যাংক খাতের এ দরপতন সূচকে নেতিবাচকভাবে ২৫ পয়েন্ট প্রভাব ফেলেছে, যা শেষ পর্যন্ত সূচকের পতনকে ত্বরান্বিত করেছে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৯:১৩   ৬ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●