![]()
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিরোধ ও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। আগে থেকেই একটি আহ্বায়ক কমিটি বহাল থাকা অবস্থায় নতুন করে আরেকটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করায় এ বিরোধের সূত্রপাত। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
শনিবার (৮ নভেম্বর) নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে অগঠনতান্ত্রিক ও অবৈধ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন পূর্ববর্তী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও সাংবাদিক সঞ্জয় সাহা।
এদিন ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক নবীনগরে এসে নতুন একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছেন। অথচ আগের একটি কমিটি বহাল থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কিছু না জানিয়ে বা তাঁর সঙ্গে আলোচনা না করে এভাবে নতুন কমিটি গঠন করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগঠনতান্ত্রিক। একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বা সহ-সাধারণ সম্পাদকের এককভাবে এ ধরনের কমিটি গঠনের এখতিয়ার রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সঞ্জয় সাহা আরও বলেন, এ বিষয়ে তিনি কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তোষ শর্মা তাঁকে জানিয়েছেন, নতুন কমিটি গঠনের অনুমতি কে দিয়েছেন, তা জানতে হবে এবং আগের কমিটিই বহাল থাকবে। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের এ বক্তব্য সংশ্লিষ্টদের জানাতেই তিনি ফেসবুক লাইভে এসেছেন বলে জানান। একই সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও সাংবাদিক শ্যামা প্রসাদ চক্রবর্তী শ্যামল নতুন কমিটির বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নবীনগর কালীবাড়িতে আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট বিনয় বাবুর সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকসহ জেলা কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভাতেই নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
তিনি আরও জানান, ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির ২৬ জন সদস্য ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন। পূর্ববর্তী কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হওয়ায় উপস্থিত সবার সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই নবগঠিত কমিটিকে অবৈধ বা অগঠনতান্ত্রিক বলার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, একই সংগঠনের দুটি আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ পূর্ববর্তী কমিটির ধারাবাহিকতা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বক্তব্য তুলে ধরছে। অন্য পক্ষ মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির পরিবর্তে জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি সামনে আনছে।
সার্বিকভাবে, পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটি নিয়ে সৃষ্ট এ বিরোধ নিরসনে সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সমাধান জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অন্যথায় নেতৃত্বের এ বিরোধ বৃহত্তর হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন ও সাংগঠনিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪৪:০১ ৩ বার পঠিত | ● নবীনগর পূজা উদযাপন পরিষদ ● পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি ● শ্যামা প্রসাদ চক্রবর্তী ● সঞ্জয় সাহা