![]()
নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজার পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র জাহাঙ্গীর হোসেনকে (৪০) আটকের খবররে কৃষ্ণপুরা এলাকায় হাজারো নারী পুরুষ থানায় জড়ো হয়। এসময় জাহাঙ্গীরের মুক্তির দাবীতে স্লোগান দেয়। পরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর নিরাপত্তা বেস্টনী থেকে উপস্থিত নারী পুরুষকে শান্ত থাকা অনুরোধ করেন।
থানার ওসি এনায়েত হোসেন জাহাঙ্গীর যাতে ন্যায় বিচার পায় সেজন্যে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এসময় জাহাঙ্গীরকে দুর থেকে এক নজর দেখে অনেক নারী পুরুষ কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এর আগে শুক্রবার (১৪ মার্চ) বিকেল বাবা মার কবর জিয়ারত শেষে ফেরার পথে সাড়ে ৩টার দিকে তাকে উপজেলার কৃষ্ণপুরা এলাকা থেকে পুলিশ জাহাঙ্গীর হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর কৃষ্ণপুরা এলাকার মৃত আমিন উদ্দিনের ছেলে। তিনি আড়াইহাজার পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং প্যানেল মেয়র ছিলেন। এছাড়াও তিনি সাবেক সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবুর ঘনিষ্ট ও বর্তমানে উপজেলার আওয়ামী যুবলীগের সহসভাপতি পদে রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্যান্য কাউন্সিলরসহ দলের সহযোগি অনেকেই গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তার এড়াতে স্থানীয় সাংসদ, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, পৌরসভার সাবেক মেয়র সুন্দর আলীসহ অনেকে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনের চলেন যায়। কিন্তু সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন এলাকায় অবস্থান করে তার ব্যবসা বানিজ্য চালুসহ তার ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেন।
শুক্রবার জুমআর নামায শেষে সামাজিক কবরস্থানে তিনি বাবা মার কবর জিয়ারত করতে যান। কবর জিয়ারত শেষে বাড়ি ফেরার পথে কৃষ্ণপুরা এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ খবর স্থানীয়দের মাঝে পৌছালে এলাকার বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষ জড়ো হয়ে থানায় অবস্থান নেয় এবং তার মুক্তি দাবী করে স্লোগান দিতে থাকে। অনেকে দুর থেকে জাহাঙ্গীরকে দেখে কান্না ভেঙ্গে পড়ে।
৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সফুরা খাতুন নামে এক বৃদ্ধ নারী বলেন, ‘জাহাঙ্গীর কমিশনার নয়। সে আমার ছেলে। ছেলেকে দেখতে আসছি। ছেলের জন্য বুকটা ফেটে যাচ্ছে। তাকে না নিয়ে বাড়ি যাবনা বলেই কেঁদে ফেলেন।’
কৃষ্ণপুরা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান, সিরাজুল ইসলাম, কদম, আলীসহ আরও অনেকে জানান, জাহাঙ্গীর আড়াইহাজার পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিন তিন বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছে। তাকে অনেক ষড়যন্ত্র করেও পরাজিত করতে পারেনি। তার কাছে কোন দলমত নেই। সকলকে পরিবারের লোক মনে করে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমান পটপরিবর্তনে অনেকে আত্মগোপনে চলে গেলেও তিনি ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ছেড়ে যায়নি। দিনরাত প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন। এমনকি তিনি বাসিন্দাদের তাৎক্ষনিকভাবে সমস্যা সমাধান করতে। তাকে মিথ্যা মামলা থেকে দ্রুত অব্যহতি দিয়ে তাদের মাঝে ফিরিয়ে দেয়ার দাবী জানান।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন জানান, গোপনে খবর পেয়ে জাহাঙ্গীর হোসেনকে তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে হামলা, ভাংচুর ও নাশকতার মামলা রয়েছে। জাহাঙ্গীর তিন তিনবারের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। সেজন্যে এলাকার লোকজনের সহানুভূতি থাকতেই পারে। তাই এলাকাবাসী তার মুক্তি দাবী নিয়ে থানায় এসেছে। যেহেতু আগেই তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। তদন্তে যাতে তিনি ন্যায় বিচার পান সে ব্যপারে স্থানীয়দের আশ্বাস দিলে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যায়। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তাকে শনিবার নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে থানার ওসি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:২২:৫৭ ১৯৬ বার পঠিত | ● আড়াইহাজার ● ঘেরাও ● থানা