ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ২৫ মে ২০২৫
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » হাতিয়া কমিউনিটি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

হাতিয়া কমিউনিটি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ


এম সাখাওয়াত হোসেন,হাতিয়া(নোয়াখালী)
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ মে ২০২৫


 

হাতিয়া কমিউনিটি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

নোয়াখালী: হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা কমিউনিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কুমিল্লা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নিকট। এ অভিযোগটি করেছেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী আমিরুল মোমিন বাবলু।

কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বাবলু তার লিখিত অভিযোগে কলেজটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদের স্বেচ্ছাচারিতা, ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া, অনিয়ম ও দুর্ণীতির কারণে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হওয়া সহ নানাবিদ বিষয় উঠে আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মো. নূরুন্নবী আলম হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

অভিযোগে জানা যায়, মামুনুর রশিদ কুমিল্লা বোর্ড কর্তৃক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্তির পর থেকে তার স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্ণীতিতে কলেজটিকে পঙ্গু করে ফেলে। স্থবির হয়ে পড়ে একাডেমিক কার্যক্রম। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিলে অধ্যক্ষ আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ মোহাম্মদ আলীর সহযোগিতায় প্রতিষ্টাতাকে কলেজের সভাপতি থেকে অপসারন করেন। পরে তিনি জাহাজমারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যানকে সভাপতি মনোনিত করেন।

এদিগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজে নিজের বলয় তৈরি করার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক এবং কর্মচারিকে কলেজ থেকে বের করে দেন। এদের মধ্যে প্রভাষক ফাহি উদ্দিন, প্রভাষক নুরুল ইসলাম, প্রভাষক আবদুল্যাহ আল মামুন, প্রভাষক নাছরিন আকতার, প্রদর্শক নজরুল ইসলাম, এমএলএসএস আফছার উদ্দিন, এহসান উদ্দিন, অরবিন্দু পাল সহ অনেকে। এরা সবাই কলেজের প্রতিষ্টা সময় থেকে নিয়োগ প্রাপ্ত।

অভিযোগে আরো জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিভিন্ন নামের সীম কার্ড ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাত করেন। সরকারি বিধি অমান্য করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তার নামে পরিচালিত জাহাজমারা ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখা উপবৃত্তির জন্য ছাত্রছাত্রীকে হিসাব খুলতে বাধ্য করেন।

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড থেকে কলেজের জন্য কম্পিউটার ক্রয় করার জন্য বরাদ্দকৃত চেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ তার স্ত্রী সহ কলেজের নামে যৌথ একাউন্ট খুলে চেকের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। কলেজের ছাত্রভর্তির আবেদন ফি’র একটা অংশ কুমিল্লা বোর্ড চেকের মাধ্যমে কলেজকে ফেরত দেয়। সেই টাকাও ওই যৌথ একাউন্টের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। উপবৃত্তি থেকে প্রাপ্য টিউশন ফি কখনো কলেজে একাউন্টে জমা করা হয়নি। কলেজ চত্তর এলাকায় ৫০ হাজার টাকার গাছ বিক্রি উপজেলা পরিষদ থেকে দেওয়া ১২ টি গাছ এক লাখ ২০ হাজার টাকা কলেজ একাউন্টে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।

এছাড়া কলেজে ভর্তি, ফরম-ফিলাপ, পরীক্ষার ফি সহ বিভিন্ন বিষয়ে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। বক্তব্য রেকর্ড রাখার শর্তে এসব অভিযোগ করেন কারিগরি বিভাগের ২০২৪ সালের পরীক্ষার্থী সামছুদ্দিন শুভ। ২০২৪-২০২৫ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী আফছানা। ২০২২ সালের পরীক্ষার্থী খালেদ এসব বিষয়ে প্রতিষ্টাতাকে একাধিকবার অবহিত করেছেন বলে জানান এ সব শিক্ষার্থীরা। ২০২৫ পরীক্ষার্থী রাবেয়া বেগমের পিতা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ২ বছর পর্যন্ত দায়দেনা করে তিনি মেয়েকে কলেজে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ফরম-ফিলাপের সময় অধ্যক্ষ ১৪ হাজার টাকার জন্য অনড় থাকায় মেয়েকে আর ফরম-ফিলাপ করাতে পারেননি।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা বিষয়গুলো সঠিক নয়। অসত্য অভিযোগ করে আমাকে বেকায়দা ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে আমি সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলাউদ্দিন বলেন, বোর্ড থেকে একটি নির্দেশনা পেয়েছি। স্থানীয় শিক্ষক প্রতিনিধি সহ কয়েকজনের সাথে আমার এবিষয়ে কথা হয়েছে। আমি শিক্ষক অভিভাবক প্রতিনিধি সহ সকলের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিবো।

এল/আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫০:৫১   ১৯১ বার পঠিত  |