ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫
প্রচ্ছদ » বরিশাল » ঘুষ দুর্নীতির আখড়া বাউফল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস

ঘুষ দুর্নীতির আখড়া বাউফল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস


স্টাফ রিপোর্টার,( বাউফল )
প্রকাশ: বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫


ঘুষ দুর্নীতির আখড়া বাউফল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস

পটুয়াখালী:ঘুষ দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে পটুয়াখালী বাউফল উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। জাল পর্চা, দাখিলা,আমোক্তারনামা দলিল,হেবা দলিল,সবই হয় টাকা দিলে। টাকা দিলেই অনিয়ম পরিনত হয় নিয়মে। অফিসের মোহরার মেহদী হাসান দলিলের পাশে কাঠপেন্সিল দিয়ে লিখে দেন সংখ্যা। চোখ বুঝে সই করে দেন সাবরেজিস্টার কাজী নজরুল ইসলাম।
জমি নিবন্ধনসহ কোন ধরনের ফি নগদ লেনদেনের নিয়ম জানতে কথা হয় ১০-১৫ জন দলিল লেখকের সঙ্গে। তাঁদের কাছ থেকে উঠে আসে কীভাবে,কোন দলিলের জন্য কত টাকার ঘুষ লেনদেন হয়।সরকার নির্ধারিত ফি,চেয়ে অতিরিক্ত ফি টাকা দেওয়ার নিয়ম বানিয়ে ছক বেঁধে দেন মোহরার মেহেদি হাসান।

আমোক্তার নামা বন্ধক বাংলা হলে ২ হাজার টাকা,নিজ নামে জমির রেজিষ্ট্রেশন না থাকলে বা বাবা,দাদার নামে জমির নিবন্ধন না থাকলেও চলে।আর বন্ধকি দলিল ৯৯ হাজার টাকা হলে গুনতে হয় ১২ হাজার টাকা। এর পর দলিলমুলে কত বাড়বে সাফকবলা ও বন্টন নামার বেলায় প্রতিলাখে বাড়তি ফি ১হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়।এক কোটি টাকার দলিলে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়।
দলিল লেখকদের ভাষ্য মতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে জমির খাজনা,নামজারি জাতীয় পরিচয় পত্রের নামে ইত্যাদির খুঁত বের করেন।তার পর মোহরার মেহেদি নামজারি,খাজনা,মূল কাগজের স্থলে ছেরা কাঁটা হলেই ইচ্ছেমাফিক টাকা দাবী করেন তাঁরা। তার পর চাহিদামত টাকা দিলেই তাঁরা দলিলের কোনায় ১থেকে ১০ পর্যন্ত গাণিতের সংকেত লিখে দেন,মোহরার মেহেদি। টাকা না দিলে দলিলে কাঠপেন্সিল দিয়ে প্রশ্নবোধক চিহ্ন। এর অর্থ সংশ্লিস্ট দলিলের লোক টাকা দেননি।
কার্যালয়ের একাধিক দলিল লেখন না প্রকাশ না করার শর্তে জানান,কাঠপেন্সিলের গানিতিক সংখ্যা দেখে চোখ বুঝে সাক্ষর করেন সাবরেজিস্টার কাজী নজরুল ইসলাম। আর প্রশ্নবোধক চিহ্নের দলিল ফেরত দেয়া হয় দলিল লেখকদের।সাবরেজিস্টার কাজী নজরুল ইসলাম কলাপাড়ায় শুণ্যপদে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু বাউফলের দলিল লেখকদের দল স্থায়ীভাবে সাবরেজিস্টার দাবী দীর্ঘ দিনের। দৈনিক সমকালে জাল পর্চায় দলিল রেজিস্ট্রি সংবাদ প্রকাশ হলে এক বছর আগে তাকে স্টান্ড রিলিজ করা হলেও তিন মাসে পুনরায় একই সাবরেজিস্টার কে অস্থায়ী দায়িত্ব দেয়া দলিল রেজিস্ট্রিতে ।

এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন জমির দাতা ও গৃহীতারা। দলিল লেখক সমিতির সভাপতি জালাল আহম্মেদ বলেন,১৫টি ইউনিয়ন ও একটি উপজেলা নিয়ে এতো বড় উপজেলায় নিয়মিত সাবরেজিস্টার না থাকায় দাতা,গৃহীতাদের সেবা মারাত্নকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

এক দলিল লেখক না বলার শর্তে জানায়,গৃহিতার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিলে ৮ হাজার টাকাই মোহরার মেহেদির কাসাজিতে দিতে হয়। দলিল দাতা,গৃহীতার জমির পরিমান,দাগ,খতিয়ান,চৌহদ্দীর ঘর পুরন করে ,পর্চা,দাখিলাসহ মোহরার মেহেদির টেবিলে দিতে হয়। তিনি কাঠপেন্সিল দিয়ে গানিতক সংকেত দিলেই চোখ বুঝে সই করেন সাবরেজিস্টার।
দলিল লেখকদের ভাষ্য ব্যাংকের পে - অর্ডার কেটে দলিল সম্পাদনের এক মাস হলেও পে অর্ডার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দেয়া হয় না। লিটন চন্দ্র নামের এক দাতা বলেন,দলিল দিতে গিয়ে দেখি মোহরারই সাবরেজিস্টারের কাজ করেন। বিধানে রয়েছে দাতার পর্চা,নামজারি সঠিক আছে কিনা তা সরাসরি সাবরেজিস্টার দেখার নির্দেশ রয়েছে৷ আর এ নির্দেশনা মানছে না সাবরেজিস্টার।

এতে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। একাধিক দলিল লেখক বলেন,২৪ সালে১২ ফেব্রুয়ারী পাবলিক মাঠের জাহাঙ্গীর টাওয়ার ৭ তলা বিল্ডিংয়ের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন,দলিল হয়েছে দান পত্রে। ওই দলিল সাব কবলা লিখলে ভ্যাট ও ট্যাক্স বাড়বে বলে দানপত্র দলিল করে রাজস্ব ফাকি দিয়ে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছন।

এ ছাড়া দলিলের সাথে দাতা গৃহীতার টিএন সার্টিফিকেট দেয়া আছে। কিন্তু তাতে ভ্যাট ও আয়করের বিরাট গোজামিলের অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা আরো বলেন,রেজিস্ট্রেশন করা দলিলের সাথে দেয়া সংযুক্ত কাগজ খুঁজে তদন্ত করলেই বের হবে সাপ!। সাবরেজিস্টার কাজী নজরুল ইসলাম,সপ্তাহে দুদিন আসে প্রাইভেটকারে।রোববার,ও সোমবার। বাকি মঙ্গল,বুধবার,বহস্পতিবার এ তিন দিন কলাপাড়ায় অফিস করেন একই গাড়িতে। চালককে ভাড়া দেন ১৫ হাজার টাকা।

অফিস সুত্র জানায়,একজন সাব রেজিস্টারের বেতন,সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা। তাহলে কি তিনি বেতন ভেঙ্গে গাড়িতে চরে অফিস করেন।
এ বিষয়ে মোহরার মেহেদি বলেন,আমি কাগজপত্র সঠিক আছে, কিনা তা দেখে দেই,স্যার সই করেন। আর দলিলের কোনায় ১ থেকে ৪,৫,১০ কেন লেখেন। এটা কিসের সংকেত। এর জবাবে তিনি জানান,কতটা দলিল হয়েছে তাঁর হিসাব। মোহরার নাসির অভিযোগের বিষয়ে বলেন,এসব অভিযোগ সত্যি নয়,আমাদের বদনাম করছে দলিল লেখকরা।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা অস্থায়ী সাবরেজিস্টার কাজী নজরুল ইসলাম বলেন,নিয়ম মেনেই দলিল করা হচ্ছে। অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নিব। পটুয়াখালী জেলা সাবরেজিস্টার মোঃ কামাল হোসেন বলেন,কোন অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ০:০২:৩০   ১৯৮ বার পঠিত  |