ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ফরিদপুর: আমার ছেলের লাশ দিবে দিবে বলে, অনেক ভুগিয়ে ৪ দিন পর লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে পঁচালাশ গোরস্থানে দাফন করি’। ‘কতটা নির্মমভাবে আদরের ভাতিজাকে গুলি করে মারছে ওরা’। ‘আমরা জানিও সেই অপরাধীদের বিচার হবে কি না’। ‘একদিকে সন্তান হারানোর শোক’। ‘অন্যদিকে সন্তানের মরদেহ খুঁজে বাড়িতে আনার জন্য ডিসি-এসপির কাছে দৌড়াঝাপ’। ‘তাঁর লাশ আনতে গিয়ে যতটুকু ভুগেছি’, ‘যে অমানুষিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে’।
‘সেই মুহুর্তগুলির যন্ত্রণা আজও বয়ে বেড়াচ্ছি আমরা’। কথাগুলো বলছিলেন- বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ রাজধানীর ধানমন্ডির আইডিয়াল কলেজের মেধাবী ছাত্র খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ’র বাবা কামরুল হাসান ও চাচা মো: মামুন খান। তাদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের ভদ্রাসন গ্রামে।
শহীদ হাসান সাইফুল্লাহ’র স্বজনেরা জানান, ‘খালিদ হাসান বেশ মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলো। তাকে নিয়ে তার বাবা-মা, স্বজনদের অনেক স্বপ্ন ছিল। যে স্বপ্ন গত এক বছর আগেই ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে’।
খালিদের দাদা হান্নান তালুকদার আক্ষেপ করে বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের যে সরকারই দেশ পরিচালনা করুক বাংলাদেশে আর কোন মায়ের কোল যেন খালি না হয়, তাদের স্বপ্ন যেন চিরতরে ধ্বংস না হয়ে যায়।
শহীদ খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ’র বাবা কামরুল হাসান। পরিবারের বড় ছেলে ছিলেন খালিদ হাসান। তার ছোট ভাই ও এক বোন। তারা তাদের মা-বাবার সঙ্গে ঢাকায় থাকেন।
এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪-এ শাহাদাৎ বরণকারী ভাঙ্গার বাসিন্দা ৩ জনের স্বরণে দোয়া ও তাদের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়। এদিন সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা প্রশাসন, থানা ও হাইওয়ে পুলিশসহ সরকারি সকল দপ্তরের কর্মকর্তাগন শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে দেশব্যাপী জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের মধ্যে হাসান সাইফুল্লাহ সহ ভাঙ্গার বাসিন্দা ছিলেন আরও ২ জন। তাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ শিশু আব্দুল আহাদ (৪) ও তামিম শিকদার (১২)।
উপজেলা ইউএনও মিজানুর রহমান জানান, গত জুলাই ২০২৪-এ অভ্যুত্থানে সারাদেশে অনেক মা তাদের সন্তান হারিয়েছেন। এরমধ্যে ভাঙ্গায় ৪ বছরের শিশু আহাদ সহ আরও দুইজন রয়েছেন। শহীদদের পরিবারের সকল সমস্যায় উপজেলা প্রশাসন তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অগ্রনী ভুমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য: স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন আবুল হাসান। গত ১৯ জুলাই বিকেলে সবাই বাসাতেই ছিলেন। এ সময় তাদের বাসার নিচে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ চলছিল। বারান্দায় এক পাশে বাবা, আরেক পাশে মা ও মাঝে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখছিল ছোট ছেলে আবদুল আহাদ (৪)। হঠাৎ একটি গুলি তার ডান চোখে বিদ্ধ হয়ে মাথায় ঢুকে যায়। মুহূর্তেই মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে সে। পরদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আয়কর বিভাগের উচ্চমান সহকারী আবুল হাসানের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া গ্রামে। রায়েরবাগে ১১ তলা একটি বাড়ির আট তলায় স্ত্রী সুমি আক্তার, বড় ছেলে দিহান মাতুব্বর (১১) ও ছোট ছেলে আহাদকে নিয়ে থাকতেন তিনি।
শহীদ তামিম শিকদার : গত ১৯ জুলাই বিকেল ৫ টায়, বনশ্রীর ফরাজি হাসপাতালের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় ১১ বছরের শিশু তামিম শিকদার। সে ভাঙ্গার উপজেলার খাপুরা গ্রামের দিনমজুর বাবা জুয়েল শিকদারের ছেলে। তামিমের মরদেহ গত ২০ জুলাই গ্রামের মোল্লাবাড়ি কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ০:১১:০৭ ২১৩ বার পঠিত | ● কতটা নির্মমভাবে আদরের ছেলেকে গুলি করে মারছে ওরা