![]()
নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজার উপজেলার খাগকান্দা খেয়া ঘাট থেকে অপহরণের তিন দিন পর মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার রায়পুরা এলাকার মেঘনা নদী থেকে ট্রলার চালক আরিফ হোসেন সরকারের (২৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মুক্তিপণ না দেয়ায় খেয়া ঘাটের মাঝি আরিফুল ইসলাম সরকারকে হত্যা করা হয়েছে।
গত বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাতে অপহরণের শিকার হন আরিফুল ইসলাম। পরে তার পরিবারের কাছে অপহরণকারীরা সর্বশেষ চল্লিশ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। শনিবার বিকাল ৫টার দিকে মেঘনা নদীর মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার রায়পুরা এলাকা থেকে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
এ ব্যপারে আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) সাঈফ উদ্দিন আরিফের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আরিফ উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের খাগকান্দা সরকার বাড়ির মৃত সাইজুদ্দিন সরকারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আরিফ হোসেন খাগকান্দা খেয়া ঘাট এলাকায় ট্রলার চালিয়ে যাত্রী পারাপার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। গত বুধবার সন্ধার ৬টার দিকে ৫/জন যাত্রী ট্রলার ভাড়া নিয়ে সোনাগাও উপজেলার বৈদ্যোর বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। রাত নয়টার দিকে তার বড় ভাই সাদ্দাম হোসেনের মুঠোফোনে ওপার প্রান্ত থেকে জানানো হয় আরিফকে অপরহরণ করা হয়েছে। দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয়া হলে তাকে ও তার ট্রলারটি ফেরত দেয়া হবে।
বিষয়টি আত্মীয়স্বজনকে জানানো পর প্রথমে খাগকান্দা নৌ ফাড়িকে অবগত করা হয়। পরে নিহতের বড় ভাই ছাদ্দাম হোসেন আড়াইহাজার থানায় আরিফের বন্ধু হৃদয়ের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩/৪জনকে আসামী করে আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ হৃদয় হোসেনকে গ্রেপ্তার করে তার দেয়া তথ্যানুযায়ী অভিযান পরিচালনা করতে থাকে।
আরিফের বড় ভাই ছাদ্দাম হোসেন সরকার জানান, তার ফোনে শুক্রবার সকালে ও বিকেলে তার কাছ থেকে ভিন্ন নাম্বার থেকে ফোন আসে। আরিফের মুক্তিপণবাবদ তাদের কাছ থেকে প্রথমে দেড় লাখ টাকা দাবী করে অপহরণকারীরা। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না। কোন রকমের জীবিকা নির্বাহ করে। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা তার ভাতিজা মারফত আলী ফোনে মুক্তিপণবাবদ সর্বশেষ চল্লিশ হাজার টাকা দাবী করে।
তারা চল্লিশ হাজার টাকা জোগার করে অপহরণকারীদের ফোনে লোকেশনের অপেক্ষায় ছিলো। শনিবার বিকেলে খবর আসে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার রায়পুরা এলাকায় মেঘনা নদীতে একটি লাশ পাওয়া গেছে। নৌ পুলিশের সহযোগিতায় তারা আরিফের লাশ শনাক্ত করে।
এ ব্যপারে আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) সাঈফ উদ্দিন জানান, পুলিশ আরিফকে উদ্ধারে তথ্য প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন সূত্র কাজে লাগানো হয়েছিলো। এর মধ্যে হৃদয় নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নৌ পুলিশ এ ব্যপারে তদন্ত করে কাজ করেছে। এর মধ্যে মেঘনা নদীর মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার রায়পুরা এলাকা থেকে চালিভাঙ্গা নৌ ফাঁড়ি পুলিশের সহযোগিতায় আরিফের মরদেহ উদ্ধার করেছে। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।
হত্যাকারীদের শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ
আরিফুল ইসলামের অপহরণের হত্যার ঘটনায় খুনীদের শাস্তির দাবীকে খাগকান্দা এলাকায় শনিবার সন্ধায় বিক্ষোভ মিছিল স্থানীয়রা। আনাফ ইসলাম বলেন, আরিফ একজন নিরীহ মাঝি হওয়ায় তাকে উদ্ধারে প্রশাসনের ভ‚মিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেনে। এসময় তারা আরিফের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করে খাগকান্দা এলাকায় মিছিল করে।
পুলিশের গড়িমসি বিষয়টি ভিত্তিহীন উল্লেখ করে আড়াইহাজারের খাগকান্দা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে কাজে লাগানো হয়েছে। আরিফকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। অপহরণকারী ফোনে বিভিন্ন ভাবে মিসগাইড করেছে। তবে অপহরণকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:২৪:২১ ৫৯ বার পঠিত | ● আড়াইহাজার ● জেলে ● ট্রলার ● মাঝি ● হত্যা