![]()
ঠাকুরগাঁও: ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজালাল সাজুর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মুজিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ছাত্র-জনতার আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মফিজুল হককে সাময়িক বরখাস্ত হলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইউএনও এর সিদ্ধান্তে সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহজালাল সাজুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়মে সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়টির ৬৫টি দোকান ঘরের ভাড়া আদায়ে অনিয়ম করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে স্কুলের তিনটি দোকানঘর নামমাত্র ভাড়ায় বরাদ্দ নিয়ে নিজে ব্যবসার বানিজ্য পরিচালনা না করে অধিক ভাড়ায় দোকানঘর অন্যের কাছে প্রদান করে আর্থিক সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রায় ১৬ লাখ টাকা লোকাল বেতন প্রদান করেছেন। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ৩১ জুলাই ২০২৩ তারিখের প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদ্যালয় ফান্ড থেকে বেতন গ্রহণ করা যাবে না মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে।
পীরগঞ্জের সদ্য বদলীকৃত ইউএনও তাছবীর হোসেনের বদলির দিন বিদ্যালয় ফান্ড থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ছয় মাসের বেতন পরিশোধ করা হলেও প্রভাতি শাখার চাকরিচ্যুত ১০ জন শিক্ষকের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেন নি তিনি। এসএসসি ২০২৫ পরীক্ষার কেন্দ্র ফি থেকে আদায়কৃত অর্থের ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০টাকা আদায়ে থেকে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে অর্থ তছরুপ করেছেন প্রধান শিক্ষক শাহজালাল সাজু।
এছাড়া ২০২৫ সালে একটি প্রকাশনীর কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা গ্রহণ করে পিকনিক খাতে ৬০ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়ে অবশিষ্ট টাকা আত্মসাতের করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে অভিভাবক সদস্যকে আহ্বায়ক দেখানো হলেও তাকে অবহিত না করে উন্নয়নের নামে মোটা অংকের অর্থ ব্যয় দেখিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, শাহজালাল সাজু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের বই দেওয়ার নামে ও প্রয়োজনে তার অফিস কক্ষে আসা একাধিক ছাত্রীকে বিভিন্ন ভাবে যৌন হয়রানি করেছেন তিনি।
তার এমন অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য কয়েকজন শিক্ষিকা প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাদের হুমকি ও চাকরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে বিষয়গুলো ধামাচাপা দেন তিনি। এছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, পছন্দের ব্যক্তিদের অতিরিক্ত শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ, ভোকেশনাল শাখার এক ট্রেড ইন্সট্রাকটরকে দ্বৈত বেতন সুবিধা প্রদান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মসজিদ ফি আদায় করেও ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন পরিশোধ না করা এবং মামলা পরিচালনার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজালাল সাজু।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল জানান, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজালাল সাজু ইচ্ছামত প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেছেন। ম্যানেজিং কমিটির মিটিং তিনি এসব অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু তার প্রতিবাদ আমলে নেয়া হয়নি। তাই তিনি ম্যানেজিং কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজালাল সাজু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার শাহীন আকতার জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২১:৩৭:১৪ ৩৬ বার পঠিত | ● অনিয়ম-দুর্নীতি ● পীরগঞ্জ