![]()
পটুয়াখালী: দীর্ঘদিন ইলিশের সংকটের পর অবশেষে সাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীতে কিছুটা ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন জেলেরা। তবে ইলিশ আহরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট। ফলে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় মাছ ধরতে না পেরে হতাশ অনেক জেলে ও ব্যবসায়ী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিন ধরে পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর-মহিপুর উপকূলে জেলেদের জালে ভালো পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে। কিন্তু তেলের অভাবে অনেক ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। এতে ইলিশের এই মৌসুমে সম্ভাব্য বড় আয়ের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত দুই দিনে প্রায় ৬০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। এতে সাময়িকভাবে কিছুটা সংকট কাটলেও চাহিদার তুলনায় তা এখনও অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পটুয়াখালীর সবচেয়ে বড় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র মহিপুর আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস বলেন, অনেক দিন পর জেলেরা ইলিশের সংখ্যা বেশি পাচ্ছেন। কিন্তু তেলের অভাবে সব ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। প্রশাসনের দেওয়া তেলে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে, তবে পুরো সংকট কাটেনি।
আলীপুর-মহিপুর এলাকার একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ইলিশ আহরণের এই ধারা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
মহিপুরের মৎস্য ব্যবসায়ী ইব্রাহিম কোম্পানি বলেন, জালে মাছ আছে, কিন্তু তেল না থাকলে সাগরে যাওয়া সম্ভব নয়। এতে ব্যবসায় বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে ৫ লাখ টাকার বাজার নিয়ে সমুদ্রে গেলে ১০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে আসা সম্ভব কিন্তু তেলের কারনে আমরা আটকে আছি।
আলীপুর মৎস্য আড়ত মালিক মোঃ কামাল ব্যাপারী বলেন, এই সময়ে ইলিশ পাওয়া মানে সারা বছরের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ। কিন্তু তেলের সংকট আমাদের বড় সমস্যায় ফেলেছে। দ্রুত পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের একটি ট্রলার সমুদ্রে নামাতে তেল দরকার ৩০ ব্যারেল কিন্তু পাচ্ছি ৪-৫ ব্যারেল, তা দিয়ে কি হয় নাকি? এর পরে ৮ দিন বাদে অবরোধ। অথচ কোটি টাকার সরঞ্জামাদি পরে আছে। আমরা লোকসান গুনছি।
এদিকে আলীপুর-মহিপুর ও কুয়াকাটা মাছ বাজারে রোববারের ইলিশের বাজারদরও বেশ চড়া দেখা গেছে। বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকায়, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১২০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৬০০ টাকা কেজি। এছাড়া ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২০০০ টাকা এবং এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, দীর্ঘদিন ইলিশ ছিল না। তবে গত কয়েকদিন ইলিশের বেশ দেখা মিলছে। সমস্যা হচ্ছে তেলের সংকট। জেলেদের সুবিধার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশাকরি অবরোধের আগের ক’দিন ভালো ইলিশ মিলবে।
উল্লেখ্য, ইলিশ সংরক্ষণে চলমান নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে বাকি রয়েছে আরও ৮ দিন অর্থাৎ আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সমুদ্রে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। এর আগে অন্তত একবার জেলেরা যেন নির্বিঘ্নে মাছ ধরার সুযোগ পান, সে লক্ষ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে জ্বালানি সরবরাহসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে জেলেরা বলছেন, এই স্বল্প সময়ে পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে তাদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:৫৮:৩৮ ৭৭ বার পঠিত | ● আহরণ ● কলাপাড়া ● তেল ● ভাটা ● সংকটে ইলিশ