কুড়িগ্রাম: উলিপুর পৌরসভার নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে ৭ কোটি টাকার ৪টি সড়ক পাঁকাকরনের কাজে পঁচা ইটের খোয়া ও ইটভাটার মাটি দিয়ে কাজ করার অভিযোগে সড়ক নির্মান কাজ স্থগিত করে নিম্মমানের নির্মান সামগ্রী অপসারনের নির্দেশ দেওয়া হলেও নিম্মমানের সামগ্রী অপসারন না করেই,তড়িঘড়ি করে কিছু ভাল ইট এনে পচা খোয়া ঢেকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। অর্থায়নকারী সংস্থা বলছে নিম্মমানের নির্মান সামগ্রী অপসারন ও মান নিশ্চিত না হলে কাজের বিল প্রদান করা হবে না। তবুও চলছে নিম্মমানের কাজ। পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের লোক দেখানো কাজ স্থগিতের ভুমিকা নিয়ে এলাকাবাসির মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক গুলোর কাজ ৩ মাসে শেষ করার কথা থাকলেও দেড় বছরেও শেষ না হওয়ায় প্রকল্প এলাকায় চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যাদুপোদ্দার ভাটিয়া পাড়া সড়কটির কাজ মুখ থুবরে পড়ে থাকায় কৃষকদের কৃষি পন্য, শিক্ষার্থী ও জনসাধারনের চলাচলে মারাক্তক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
পৌরসভা কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, গত ২০২৩/২০২৪ অর্থ বছরে নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের(আই ইউ জি আই পি) অর্থায়নে পৌরসভার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি প্যাকেজে ৪টি সড়কের সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পাঁকাকরনে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহন করে। সড়ক গুলোর কাজের দায়িত্ব পান মেসার্স বেলাল কনস্ট্রাকশন। কিন্ত কাজ করছেন ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম। গত ৪ নভেম্বর ২০২৪ সালে কাজ শুরু করেন। কাজের মেয়াদ ছিল ৩ মাস। পরে ঠিকাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৬০ ভাগ। সড়কের নক্সা অনুযায়ী, সড়কের বক্স কাটিং দেড়-দুই ফিট। এর মধ্যে নীচে ১০ ইঞ্চি বালু,এ এস ৮ ইঞ্চি, (অর্ধেক বালু অর্ধেক খোয়া)ডাব্লুপিএম ৬ ইঞ্চি,(এক নম্বর ইটের খোয়া), ৪০ মিলি কার্পেটিং। এছাড়া প্যালাসাইডিং( গাইড ওয়াল) রয়েছে প্রায় ৬৮৫ মিটার। স্থানীয়দের অভিযোগ নীচে বালু না দিয়ে এবং এক নম্বর ইটের পরিবর্ত্তে পচাঁ আধলা ইটের খোয়া ও ভাটার মাটি দিয়ে সড়ক নির্মান করছে। বিষয়টির সত্যতা পাওয়ায় গত ১৬ এপ্রিল/২৬ কাজ স্থগিত করা হয়েছে এবং নিম্মমানের নির্মান সামগ্রী অপসারন নিশ্চিত পুর্বক, সিডিউল মোতাবেক কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. তছলিম উদ্দিন বলেন,এক বছর হয় সড়কে মাটি খুড়ছে রেখেছে। থাকি থাকি কাজ করছে। নীচেত বালা না দিয়া পচাঁ আধলা ইটের খোয়া আর বেশীর ভাগ ভাটার মাটি দিয়া কাজ করতেছে। আমরা এলাকার মানুষ তাতে বাধাঁ দিছি। তখন থাকি কাজ ফির বন্ধ হইছে। এত খারাপ কাজ করলে সড়ক ৬ মাসে ভাঙ্গি যাইবে। ভাটিয়া পাড়া গ্রামের মো. আব্দুর রশিদ বলেন, ৩য় শ্রেনীর ইটের খোয়া দিয়া কাজ করছে আমরা বাধা দিচি। পরে খোয়া দিছে সেটাও খারাপ। পুকুরে গাইড ওয়াল গুলো সড়ক থেকে অনেক নীচে নির্মান করা হয়েছে। ৯ নম্বর ওয়াডের কয়েক হাজার মানষের এই একটাই সড়ক। হামরা সড়কটা ভাল করি চাই। স্কুল শিক্ষার্থী মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, আমাদের স্কুলে যাওয়ার আর কোন রাস্তা নাই। দেড় দুই বছর ধরি কাজ করছে। আমরা যাতায়াত করতে পারি না। রাস্তাটা ভাল করি পাকা করি চাই।
ঠিকাদার মো. শফিকুল ইসলাম শফি বলেন,অভিযোগ গুলো সঠিক নয়। কাজ স্থগিতের কথা স্বীকার করেন। কাজ ভাল করার জন্য সর্বচ্ছ চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্ত উলিপুরের মানুষ খুব খারাপ। এখন ভাল ইট এন সড়কে ভাঙ্গা হচ্ছে। নিম্মমানের নির্মান সামগ্রী অপসারন করেন নাই কেন এ প্রশ্নের উত্তর এরিয়ে যান ।
নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মান নিশ্চিত করন প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন,অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কাজ স্থগিত করা হয়েছে। নিম্মমানের নির্মান সামগ্রী অপসারন নিশ্চিত করে ঠিকাদারকে পুর্নরায় কাজ করতে হবে। যদি এর ব্যতিক্রম হয় তাহলে বিল দেওয়া হবে না।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন,অভিযোগের কারনে কাজ স্থগিত করা হয়েছে । নিম্মমানের মালামাল সাইড থেকে অপসারন করতে বলা হয়েছে। কাজ শুরুর কথা জানিয়েছে ঠিকাদার। কিন্ত নিম্মমানের মালামাল সরিয়েছে কিনা তা না দেখে কিছু বলা যাবে না। পৌর প্রশাসক ও( ভারঃ) ইউএনও.এস এম মেহেদী হাসান বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। জেনে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।
এন/ আর