![]()
হবিগঞ্জ: নবীগঞ্জ থানার ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও বৈষম্য বিরোধী মামলার আসামি মোঃ আব্দুল কাদেরকে মামলা তদন্তে অনিয়ম ও স্বজন প্রীতির অভিযোগে তাকে হবিগঞ্জ জেলা থেকে ক্লোজ করে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনে বদলী করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার মোঃ তারেক মাহমুদ।
জানাযায়, নবীগঞ্জে গত বছরের ৭ জুলাই একটি মারামারির ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় একটি পুলিশ এসল্ট মামলায় নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাবেক নির্বাচিত সভাপতি ও দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি এম,এ আহমদ আজাদ আসামি করা হয়। সাংবাদিক আজাদ বিষয়টি সুষ্টু তদন্তের দাবি জানিয়ে তার মোবাইল সিডিআর চেক করার জন্য পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন। কিন্তু মামলার তদন্ত কারী অফিসার সাব ইন্সপেক্টর আব্দুল কাদের তিনি মনগড়া ভাবে তদন্ত করেন। তিনি সাংবাদিক আজাদের মোবাইল সিডিআর পরীক্ষা না করেই মনগড়া ভাবে অতি গোপনীয় ভাবে চার্জশীট প্রদান করেন। ঐ চার্জশীটে তিনি সাংবাদিক এম,এ আহমদ আজাদকে ৭নং আসামি হিসাবে অর্ন্তভুক্ত করেন।
উল্লেখ্য যে, উক্ত মারামারির ঘটনায় দুটি মাডার,ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিকান্ড সংঘঠিত হয়। এই বিষয়ে উভয় পক্ষের লোকজন পাল্টাপাল্টি অনেক গুলো মামলা করেন। এর মধ্যে নবীগঞ্জ থানায় দুটি খুনের মামলা ও দুটি বিস্ফোরক আইনে মামলা রেকর্ড করা হয়। কিন্তু ৪টি মামলার পৃথক পৃথক বাদী বা বিবাদী সাংবাদিক আজাদকে আসামি করেননি।
ঘটনার পর থেকে সাংবাদিক আজাদ তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইলের লকেশন ট্রেকিং করার দাবি জানিয়ে আসছেন। পরবর্তী মামলার তদন্তকারী কারী কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর আব্দুল কাদের কোন ধরনের সুষ্টু তদন্ত ছাড়াই তিনি উদ্দেশ্যমুলক ভাবে সাংবাদিক আজাদকে উক্ত মামলার চার্জশীট ভুক্ত আসামি করেন। উক্ত মারামারির ঘটনাটি আপোষে মিমাংসা করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধিরাসহ বিশিষ্ট সালিশ বিচারকরা। কিন্তু এই সালিশি সভার পর মামলা গুলোর গুরুত্ব অনেক কমে যায়।
বারবার তাকে সুষ্টু তদন্তের জন্য বলা হয় ও সালিশি প্রক্রিয়ার বিষয়টি অবগত করা হয়, কিন্তু তিনি তাতে কোন কর্নপাত করেননি। বরং তিনি বড় অংকের উৎকোচ দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেন। বিষয়টি সাংবাদিক আজাদ তখনকার সময়ের পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট মুখিক ভাবে অবগত করেন।
আমি খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বিগত আওয়ামীলীগের একজন দোসর, তিনি বৈষম্য বিরোধী মামলার বিস্ফোরক আইনের মামলার ২নং এজাহার এফআইআরও ভুক্ত আসামি। (নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানা মামলা নং ১৬/৩০১ তাং ২১ নভেম্বর ২০২৪) তিনি বৈষম্য বিরোধী মামলার একজন এজাহারে এফআইওআর ভুক্ত আসামি। হয়েও তিনি তথ্য গোপন করে নবীগঞ্জ থানার ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বির্তকিত ভুমিকা নিয়ে পুলিশের সুনাম ক্ষুন্ন হয়। গতকাল সকালে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশনা মোতাবেক তাকে হবিগঞ্জ থেকে ক্লোজ করে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার মোঃ তারেক মাহমুদ।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ০:১৯:০৩ ২৩ বার পঠিত | ● ক্লোজ ● নবীগঞ্জ ● সাব-ইন্সপেক্টর
----