![]()
কুড়িগ্রাম: উলিপুর পৌর শহরে ৪টি চকচকে পানির পাম্প দাড়িয়ে রয়েছে কয়েক বছর। দেখলে মনে হবে এটি কোন আধুনিক নগরসেবার প্রতীক। যা প্রতিদিন হাজারো মানুষের সুপিয় খাবার পানির চাহিদা পুরন করছে। কিন্ত বাস্তবতা একেবারে ভিন্ন। পাম্প হাউজ গুলো তালা বদ্ধ অবস্থায় দীর্ঘ দিন,ভেতরে যন্ত্রপাতি ধুলায় ঢাকা। পাইপে ধরেছে মরিচা ও চত্বরে ঝার জংগলে ভরা। পাঁচ বছর ধরে অব্যবহ্নত পড়ে থাকা এটি পানি সরবরাহ প্রকল্পের নিরব সাক্ষী।
পৌরবাসির বিশুদ্ধ সুপ্রিয় পানি সংকট নিরসনে বাংলাদেশের ২৩টি পৌরসভার পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় সৌদি আবর” ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)র অর্থায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যায়ে পানি সরবরাহে বসানে হয়েছে পাম্প হাউজ ও পাইপ লাইন। কিন্তু আজও পানি সরবরাহ কার্যক্রম চালু হয়নি। ফলে যে প্রকল্প থেকে নগরবাসির নিরাপদ খাবার পানি পাওয়ায় কথা, সেটি এখন পৌরবাসির কাছে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্টান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, উলিপুর পৌর শহরের মানুষের বিশুদ্ধ সুপিয় পানির চাহিদা পুরনের লক্ষে বাস্তবায়ন করে প্রকল্পটি। এর আওতায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান করা হয় ৪টি পানির পাম্প ও ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৩ কিলোমিটার পাইপ লাইন বসানো হয়। যার মাধ্যমে ২ হাজার ৬৫০ টি পরিবার পানি সরবরাহ সুবিধা পাওয়ার কথা।
কুড়িগ্রামের মের্সাস আদিল ইন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্টান ২০২২ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু করেন এবং ২০২৩ সালে কাজটি শেষ করে। কিন্ত ত্রুটি পুর্ন ও নিম্মমানের কাজের কারনে পানি সরবারাহের জন্য পাম্প চালু করলেই পাইপ ফেটে যায় (লিকেজ) দেখা দেয়। ফলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ত্রুটিপুর্ন প্রকল্পটি, পুরো পুরি ত্রুটিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত (হস্তান্তর) প্রকল্প বুঝিয়ে নিতে অপারগতা জানায় ঠিকাদারকে। ফলে এক বছরের প্রকল্প, ৫ বছরেও চালু করতে পারেনি জনরস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এরমধ্যে প্রায় ৭ শত আবেদনকারীর বাসা বাড়ীতে পানির সংযোগ দিলেও আজ অবদি এক ফোঁটা পানিও পায়নি বলে জানান সুবিধাভোগিরা। এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ ও ত্রুটিপুর্ন অবস্থায় প্রকল্পটি হস্তান্তরে আপত্তি জানিয়েছে। ফলে প্রকল্পটি মুখ থুবরে পড়েছে। নগরবাসি এর সুফল পেতে অনিশ্চিয়তায় পড়েছে।
পাম্প ভবন গুলো দীর্ঘদিনের অব্যবহারের চিহ্ন স্পষ্ট। কক্ষে জমেছে ধুলাবালি। পাম্প্ ও যন্ত্রাংশে পড়েছে মরিচা। প্রকল্প এলাকা রক্ষাবেক্ষনের অভাবও লক্ষনীয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকেই ছিল অনিয়ম। নিম্মমানের কাজ, দায়িত্বশীলদের গাফিলতির কারনে বিশাল বিনিযোগ কার্যকর সেবায় রুপ নিতে পারেনি। পৌরসভার নারিকেল বাড়ী খামার এলাকার বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান বলেন,কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটি থেকে পৌরবাসি পায়নি কোন সুফল।
তার ভাষ্য এত বিপুল অংকের টাকা ব্যয় হলো,কিন্ত মানুষ পেল না এক ফোঁটা পানি। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিৎ বলে তিনি মনে করেন। পৌরসভার অধিকাংশই গ্রাম এলাকা, তারা বিশুদ্ধ পানির অভাবে প্রায় দুষিত পানি ব্যবহার করে। তাই তাদের আশা ছিল প্রকল্পটি বাস্থবায়ন হলে অল্প খরচে সুপিয় পানি পাবে। ফলে প্রকল্পটি ছিল তাদের আশার প্রদীপ। কিন্ত পাচ বছরের প্রকল্পটি চালু না হওয়ায় সে আশা গুড়ে বালি।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুল আলম বলেন,প্রকল্পে ব্যবহ্নত পাইপ গুলো নিম্মমানে সে কারনে পানির চাপ সহ্য করতে পারে না ফলে ফেঁটে যাচ্ছে। তাছাড়া এ প্রকল্পে ওভারহেড পানির ট্যাংকি না থাকায় এবং বাসা বাড়ীতে আন্ডার গ্রাউন্ড রির্জাব ট্যাংকি না থাকায় গ্রাহকরা সরাসরি সংযোগ নিতে পারছে না। এ অবস্থায় প্রকল্পটি হস্তান্তর করা হলে পৌরসভার গোদের উপর বিষ ফোঁরা বলে মন্তব্য করেন। তাই প্রকল্পটি হস্তান্তরে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে ওভারহেড ট্যাংকি নির্মান করা হলে এ সমস্যা থাকবে না। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে সে আবেদন জানাবেন বলে জানান এ কর্মকর্তা।
জোদ্দার পাড়া এলাকার বাসিন্দা তপন কুমার রায় বলেন,ভালো পানির আশায় ১ শত টাকা দিয়ে আবেদন করেছিলাম। কোন রকমে বাসায় সংযোগ পাইপ এনে রেখেছে। ৪ বছর হলো এক ফোঁটা পানি পাইনি। তপনের মত তন্ময় সরকার, আশরাফুল আলম, বিপ্লব সরকার, শফিকুল ইসলাম ও আবুল কালাম মন্ডল সবার ভাষ্য, সেবার নামে এটা প্রতারনা।
উলিপুর জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো.আশরাফুল আলম বলেন,পাইপ লাইনে অনেক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তাই কাজটি হস্তান্তর নেয়া হয়নি। ত্রুটিমুক্ত হলে নেয়া হবে। তবে এ প্রকল্পে অভারহেড ট্যাংকি নক্সায় ছিল না। প্রকল্পটি কার্যকর করতে হলে অভারহেড ট্যাংকি নির্মান করতে হবে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্টান মের্সাস আদিল ইন্টার প্রাইজ এর প্রপাইটার, মো. আমিনুর রহমান বলেন,ত্রুটি গুলো প্রায় ঠিক করা হয়েছে । দ্রুত বাকী কাজ শেষ করে প্রকল্প হস্তান্তর করা হবে। নিম্মমানের কাজের অভিযোগ সত্য নয়। তবে এলাকার মানুষ তাদের বাড়ীর কাজ করতে গিয়ে প্রায় পাইপ কেটে ফেলছে। আমরা কি করতে পারি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এ টি এম আরিফ বলেন,আমি বিষয়টি জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অবগত হয়ে পরবর্ত্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাাহী প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশিদ এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঢাকা যাচ্ছি পরে যোগাযোগ করতে বলেন। তারপর তার সাথে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৭:০৩:০৮ ১১ বার পঠিত | ● উলিপুর ● পাম্প হাউজ