ঢাকা    শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের দুর্ঘটনার বাড়াচ্ছে ঝুঁকি,নিরাপত্তা ঘাটতি

কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের দুর্ঘটনার বাড়াচ্ছে ঝুঁকি,নিরাপত্তা ঘাটতি


আঃ মজিদ খান, (পটুয়াখালী )
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


 -

পটুয়াখালী: কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে নিরাপত্তা ঘাটতি পর্যটকের ভিড় থাকলেও নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে প্রতিদিনই হাজারো পর্যটকের ভিড় থাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত লাইফগার্ড, আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম, সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সাড়াদান সক্ষমতা এবং টুরিস্ট পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতার ঘাটতিতে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

বিশেষ করে সরকারি ছুটি, সাপ্তাহিক অবকাশ ও বিভিন্ন উৎসবের সময় সৈকতে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অথচ সেই তুলনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। এমনকি সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডও নেই বলে দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পর্যটকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জোয়ারের সময় উত্তাল ঢেউ ও তীব্র স্রোতের তোয়াক্কা না করে অনেক পর্যটক গভীর পানিতে নেমে পড়েন। কিন্তু তাদের সতর্ক করা কিংবা দুর্ঘটনার সময় দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড ও আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সবসময় প্রস্তুত থাকে না। ফলে যেকোনো সময় প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে যায়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, লাইফগার্ডের ঘাটতির কারণে অনেক সময় স্থানীয় ফটোগ্রাফার, মোটরসাইকেল গাইড ও স্পিডবোটচালকদেরই উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসতে হয়। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা সরঞ্জাম ছাড়াই মানবিক কারণে তারা ঝুঁকি নিয়ে পর্যটকদের সহায়তা করেন।

স্থানীয় মোটরসাইকেল গাইড আঃ রহিম বলেন, ‘সৈকতে কোনো পর্যটক ঢেউয়ে বিপদে পড়লে অনেক সময় মোটরসাইকেল গাইড, ফটোগ্রাফার ও স্থানীয়রাই আগে ছুটে যাই। পর্যাপ্ত লাইফগার্ড না থাকায় আমাদেরই উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করতে হয়। কিন্তু এ ধরনের কাজের জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা সরঞ্জাম নেই। তাই দ্রুত স্থায়ীভাবে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড নিয়োগ দেওয়া জরুরি।’

স্থানীয় ফটোগ্রাফার আঃ জলিল বলেন, ‘প্রতিদিন সৈকতে ছবি তুলতে গিয়ে অনেক পর্যটককে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যেতে দেখি। কেউ স্রোতে পড়ে গেলে বা বিপদে পড়লে স্থানীয়রাই উদ্ধারকাজে নেমে পড়ি। এটি আমাদের দায়িত্ব নয়, তবুও মানবিক কারণে করতে হয়। পর্যাপ্ত লাইফগার্ড থাকলে এ ধরনের ঝুঁকি অনেক কমে যেত।’

বরিশাল থেকে আসা পর্যটক মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিশ্বের উন্নত সমুদ্রসৈকতগুলোতে নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর লাইফগার্ড টাওয়ার, রঙভিত্তিক সতর্কতামূলক পতাকা, নিয়মিত মাইকিং এবং জরুরি সহায়তা কেন্দ্র থাকে। অথচ কুয়াকাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে এসব ব্যবস্থা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই অপ্রতুল।’

এদিকে সৈকতসংলগ্ন এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের স্থায়ী উপস্থিতি ও দ্রুত সাড়াদানের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু বলেন, ‘কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। কিন্তু পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড, সতর্কীকরণ পতাকা, আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম, তথ্যকেন্দ্র এবং নিয়মিত নিরাপত্তা তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন। নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে পর্যটকদের আস্থা আরও বাড়বে।’

টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল আহসান বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পর্যটকদেরও সতর্কতামূলক নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।’

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৩৫:২১   ১৬ বার পঠিত  |