ঢাকা    রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » ৫৭ বছরেও হয়নি পাকা ভবন, ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেডে চলছে পাঠদান

৫৭ বছরেও হয়নি পাকা ভবন, ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেডে চলছে পাঠদান


রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী(পিরোজপুর)
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬


৫৭ বছরেও হয়নি পাকা ভবন, ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেডে চলছে পাঠদান

পিরোজপুর: কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৫৭ বছর ধরে জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনেই চলছে পাঠদান। টিনের চালায় অসংখ্য ছিদ্র, মাটির মেঝে, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং অনুপযোগী খেলার মাঠ নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের টিনের চালায় মরিচা ধরে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। মাটির মেঝে কাদায় পরিণত হওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হয়। আবার প্রচণ্ড গরমে টিনশেড কক্ষগুলোতে অসহনীয় তাপমাত্রা সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় থাকে। নিচু খেলার মাঠে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকায় সেটিও এখন খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো তারাও একটি আধুনিক পাকা ভবনে বসে স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা করতে চায়। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী চাঁদনী ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলভি রহমান বলেন, “বৃষ্টি হলেই টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। গরমের দিনে টিনশেড কক্ষে ক্লাস করা খুবই কষ্টকর। আমরা দ্রুত একটি পাকা ভবন চাই।”

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৯ সালে এলাকার শিক্ষানুরাগী শাহাবুদ্দিন তালুকদারের উদ্যোগে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৫ সালে বিদ্যালয়টি এমপিভুক্ত হয়। বর্তমানে জরাজীর্ণ সাতটি কক্ষে ১৭০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে আসছে।

অভিভাবকরা বলেন, দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহানারা আক্তার বলেন, “জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা চরম ঝুঁকির মধ্যে আছি। বর্ষা কিংবা ঝড়ের সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। নতুন ভবনের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি পাকা ভবন নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, “উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হলে বিদ্যালয়ের জন্য নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তাব যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং ভবন নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৯:০৬   ১০ বার পঠিত  |