ঢাকা রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ফরিদপুর: আলফাডাঙ্গায় সুমাইয়া শিমু (২৫) নামের এক গৃহবধু গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মেয়ের পরিবার থেকে দাবি তোলা হয়েছে তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে আড়ায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে ছেলের মা ও তাদের স্বাজনরা দাবি করেছেন গৃহবধু আত্মহত্যা করেছে। তবে কি কারণে আত্মহত্যা করেছে সে কারণ বলতে পারেনি তারা।
শুক্রবার সন্ধ্যার পূর্ব মুহুত্বে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের শৈলমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গৃহবধু সুমাইয়া শৈলমারী গ্রামের মোস্তফা শেখের কন্যা ও একই গ্রামের কাঠ মিস্ত্রি জসিম কাজীর স্ত্রী। তাদের ৭ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
এলাকাবাসী ও সুমাইয়ার পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮ বছর আগে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের শৈলমারী গ্রামের মৃত আবুল কাজীর ছেলে জসিম কাজী একই গ্রামের মোস্তফা শেখের মেয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে পালিয়ে বিবাহ করেন। সেসময় সুমাইয়ার পরিবার জসিম কাজীসহ তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন। একবছর পরই তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। গত দুই বছর আগে সুমাইয়ার পরিবার তাদের বিবাহ মেনে নেয়। সুমাইয়ার স্বামী জমিস শেখ পেশায় একজন কাঠ মিস্ত্রি।
সে ঠিকমতো কাজ করে না, নেশা করে এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। শুক্রবার জসিমের প্রতিবেশির এক অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেতে যেতে চাইলে টাকা না থাকায় জমিস বাকি টাকা লিখিয়ে আসবে বলে জানান। সুমাইয়া কোনো ভাবেই তাতে রাজী না থাকায় তাদের মধ্যে বাকবিত- হয় । দুপুরে সুমাইয়া তার সন্তানকে বড় বোনের বাসায় পাঠিয়ে দেয়। ভাগনেকে একা দেখে বড় বোন বুঝতে পারে সুমাইয়ার সাথে জসিমের ঝগড়া হয়েছে। তিনি জসিমের কাছে ফোন দিয়ে সুমাইয়ার কথা জিজ্ঞাস করলে খারাপ আচারণ করে, সুমাইয়াকে মারার হুমকি প্রদান করেন। সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহুত্বে সুমাইয়ার বড় বোনকে ফোন দিয়ে বলে সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি থানা পুলিশকে অবগত করলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
সুমাইয়ার মেঝ বোন শাহিনুর জানান, দুপুরে সুমাইয়ার ছেলে মাহিরকে একা আমাদের বাড়ি দেখে সন্দেহ হয়। তখন আমি জসিমকে ফোন দিলে সে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আমার বোনকে সে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। সন্ধ্যার আগ মুহুত্বে জানতে পারলাম আমার বোন আত্মহত্যা করেছে। আমার বোন আত্মহত্যা করেনি। তাকে মেরে আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
খবর সুনে সুমাইয়ার ছোট বোন মিম ওই বাড়িতে গিয়ে ঘর তল্লাসি করতে চাইলে জসিম বাঁধা দেয়। পরে ঘরে তালা মেরে ঘর থেকে বাহির হয়ে যায় জসিম।
সুমাইয়ার আরেক বড় বোন সুরাইয়া জানান, তাদের মধ্যে ঝড়গা হয়েছে এটা আমরা জানতে পেরে বোনকে খুঁজতে থাকি। সন্ধ্যার পূর্বমুহুত্বে জসিম ফোন দিয়ে বলে আপনার বোন আত্মহত্যা করেছে। আমরা খবর পেয়ে তাদের বাড়িতে যাই। গিয়ে দেখি আমার বোনের মরদেহ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলে আছে। ঘরের আড়ার উচ্চতা অনেক আমার বোন কোনো ভাবেই ওই ভাবে আড়ার সাথে গলায় ফাঁস নিতে পারে না। তাকে অবশ্যই মেরে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার পর জসিম গা ঢাকা দিয়েছে। তার ফোন বন্ধ রয়েছে।
জসিমের মা ছিয়ারন বেগম জানান, ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। খবর পেলাম জসিমের স্ত্রী গলায় ফাঁস নিয়ে মারা গেছে। আমার জসিম এমন কাজ করতে পারে না। আমার ছেলে নির্দোশ।
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি তদন্ত (চার্জ অফিসার) মোহাম্মদ আল-আমিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। শনিবার সকালে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রির্পোট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
এন, আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৪৫:৩৮ ৫ বার পঠিত | ● আলফাডাঙ্গা ● গৃহবধুর ● লাশ