![]()
ভোলা: চরফ্যাসন উপজেলায় চলমান ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম,স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ করেছে উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বঞ্চিত প্রার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। ফেসবুকের বিভিন্ন স্থানীয় গ্রুপ ও আইডিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও নিয়োগ বাতিলের দাবিতে তোলপাড় চলছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চরফ্যাশন ফ্যাশন স্কয়ার থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে স্লোগান দেয়।
বঞ্চিত চাকরি প্রার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পূর্ববর্তী ডিজিটাল শুমারি বা জরিপকাজে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং উচ্চ শিক্ষিত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল। কিন্তু চরফ্যাশনে সেই নিয়মকে তোয়াক্কা না করে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই অযোগ্য ও পছন্দের প্রার্থীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শুরু থেকেই সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে ব্যাকডেটেড উপায়ে পছন্দের প্রার্থীদের সুবিধা দিয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এমন অভিযোগ করেন বঞ্চিতরা।
ফলাফল প্রকাশের পর থেকে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে ও ব্যক্তিগত ওয়ালে নিয়োগ তালিকা শেয়ার করে তীব্র সমালোচনা করছেন স্থানীয়রা । অনেকেই নিয়োগ কমিটির মেধা যাচাইবাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং একে ‘পছন্দের মানুষ ও স্বজনপ্রীতির নিয়োগ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
নিয়োগ বঞ্চিত কযকেজন তরুণ জানান, “যেখানে তথ্য সংগ্রহের পুরো কাজটি ডিজিটাল ট্যাবের মাধ্যমে এবং অনলাইনে করতে হবে, সেখানে ট্যাব ব্যবহার করতে পারে না এমন অযোগ্য প্রার্থীকে চুড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। তারা জানান, সমাজসেবা কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা ও দলীয় প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করে প্রকৃত যোগ্যদের বাদ দিয়েছেন।”বঞ্চিত প্রার্থীদের পক্ষে দ্রুত এই বিতর্কিত তালিকা বাতিল করে পুনরায মূল্যাযনের দাবি জানানো হচ্ছে।
”স্থানীয় শাহাদাত হোসেন সুজন বলেন, এখানে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এভাবে চললে সরকারের এ সামাজিক উন্নয়নে সুনাম ক্ষুন্ন হবে। স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলম তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুমারী তালিকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।তালিকা প্রণয়নে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি করেন তিনি।
সোহাগ হোসেন নামের একজন শুমারী পরিক্ষায় অংশগ্রহণকারী নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের তালিকাভুক্ত করায় স্থানীয় উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সাইফুল ইসলাম রুবেল বলেন,আমি পূর্বেও অন্যান্য শুমারী কার্জক্রম ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও ডিগ্রি পাসের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি পরিক্ষায় অংশ নিয়েও দলীয় প্রভাবে লোকবল নেয়ায় তালিকায় আমার নাম নেই। উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশি আরিয়ান আবিদ বলেন, প্রশাসন মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ না দিয়ে অনিয়ম ও দূর্নীতি করে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজনকে সুযোগ করে দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পায়তারা করেছে। ছাত্রদলের মেধাবী শিক্ষার্থী ও বেকারদ নিয়োগ প্রত্যাশিদের সুযোগ দেয়নি।
উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আরিফ ফরাজী বলেন,ইউনিয়ন পর্যায় থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নাম দেয়া হলেও তাদের নাম না থাকায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল করেছে।
নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসেন বলেন, সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে এবং কমিটির সকলের সমন্বয়ে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে মেধার ভিত্তিতে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত সুবিধা বা অনিয়ম করার সুযোগ ছিল না। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও চাকরিপ্রত্যাশীরা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া অনতিবিলম্বে স্থগিত করে জেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্তাবধানে পুনোরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানান।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৩:২২ ১১ বার পঠিত | ● কার্ড তথ্য গননাকারী ● চরফ্যাসন ● নিয়োগ ● ফ্যামিলি