ঢাকা    সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » মাটির নীচে সুরঙ্গ সংস্কারের এক সপ্তাহের মাথায় ধস, যোগাযোগ বিচ্ছিনের আশঙ্কা

মাটির নীচে সুরঙ্গ সংস্কারের এক সপ্তাহের মাথায় ধস, যোগাযোগ বিচ্ছিনের আশঙ্কা


জাকির হোসেন,আমতলী (বরগুনা)
প্রকাশ: রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


মাটির নীচে সুরঙ্গ সংস্কারের এক সপ্তাহের মাথায় ধস, যোগাযোগ বিচ্ছিনের আশঙ্কা
বরগুনার: আমতলী একে সরকারী হাইস্কুল-তালুকদারহাট-গাজীপুর সড়কের পৌরসভার শেষ সীমানা কালীবাড়ী নামক স্থানে সড়কের প্রায় দুইশ’ ফুট সড়ক আকস্মিক কালিবাড়ি খালের পানিতে ধসে পড়েছে। সড়কটি ধসের প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও সংস্কারের কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় পুরো সড়কটি ধসে আমতলী শহরের সাথে চাওড়া ও হলদিয়া ইউনিয়নের একটি অংশের যোগাযোগ বিচ্ছিনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সড়কটি দেড় মাস আগে প্রায় পৌনে আট কোটি টাকা ব্যায়ে সংস্কার করেছে স্থানীয় এলজিইডি।
আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চাওড়া ইউনিয়নের কালিবাড়ি-তালুকদারহাট-গাজীপুর ৪ কিলো ৮শ’ ৬০ মিটার সড়কের সড়কের সংস্কার কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। সংস্কারের ব্যায় ধরা হয় ৮কোটি ৭৮ লক্ষ ৪৩ হাজার ২শ’ ৮৯ টাকা। সর্বনিম্ম দরদাতা হিসেবে কাজটির কার্যাদেশ পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটি কিনে নেন চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান বাদল খান। জুলাই মাসে সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ করে স্থানীয় ঠিকাদার বাদল খান। কাজটি শেষ করার পর আগস্ট মাসের প্রথস প্তাহের দিকে কালিবাড়ি সেতু ও নাসিমার দোকানের মধ্যবর্তী স্থানের খালের পাশ ধরে প্রায় দুইশ’ ফুট সড়ক ৭-৮ ফুট গভীরতায় আকস্মিক কালিবাড়ি খালের পানিতে ধসে পড়ে। সড়কটি ধসের একমাস অতিবাহিত হলেও সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এখনো। ফলে পুরো সড়কটিই ধসে পরতে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।
রবিবার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আমতলী একেস্কুল থেকে শুরু হয়ে সড়কটি কালিবাড়ি খালের পার হয়ে তালুকদার হাট হয়ে গাজিপুর বন্দওে গিয়ে মিলিত হয়েছে। সড়কের কালিবাড়ি সংস্কারের পর কালিবাড়ি খালের পাওে অবস্থিত নাসিমার দোকান থেকে কালিবাড়ি সেতু পর্যন্ত প্রস্তের অর্ধেক এবং দুইশ’ ফুট দৈর্ঘ ধওে ৭-৮ফুট গভীল ভাবে ধসে পরে। সড়ক ধসের ফলে সড়কের পাশে অবস্থিত ১০-১৫টি বিশাল আকারের রেন্ট্রি ও মেহগিনি গাছও পানিতে ধসে পরেছে।
ধসে যাওয়া সড়কের পারে নিরাপত্তার জন্য স্থানীয়রা বাঁশের সাথে লাল কাপর বেধে নিরাপত্তা বেষ্টনী টানিয়ে দিয়েছে। সড়ক ধসের পর ভাঙ্গা যায়গার পাশ দিয়ে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বর্তমানে পিকআপ, মালবোঝাই ট্রাক ও শত শত অটো চলাচল করছে।
কালিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. মামুন রাঢী বলেন, কালিবাড়ি খালটি প্রবাহমান। ¯্রােতের কারনে নীচ দিয়ে সুরঙ্গ হওয়ায় মাটি সড়ে গেছে। যে কারনে আকস্মিক সড়কটি ধসে পরেছে। একই গ্রামের কালাম হাওলাদার বলেন, সড়ক ধসের ফলে যানবাহন চলাচল এখন ঝুঁকি পূর্ন হয়ে উঠেছে। ধসের পর যেটুকু অবশিষ্ট আছে তাও যেন আবার কোন সময় ধসে আমতলী-তালুকদার হাট বাজারসহ গাজীপুর বন্দরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় আমরা এখন সেই আশঙ্কায় আছি।
তালুকদার হাট বাজারের ব্যবসায়ী আলামীন বলেন, কালিবাড়ি-তালুকদার হাট সড়কের কালিবাড়ি নামক স্থান দিয়ে সড়ক ধসে পরেছে। ধসে পরার এক মাস পরও মেরামত করা হয়নি। এই সড়কটি অতিগুরুত্বপূর্ন। সড়কটি অতিদ্রুত মেরামত করা না হলে বাকি টুকুও ধসে পরবে যে কোস সময়। তখন হলদিয়া ও চাওড়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

আমতলী-তালুকদার হাট সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আসাদুল হাওলাদার বলেন, ‘দেবে যাওয়া সড়কের ওই অংশ দিয়ে আমাদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
আরেক চালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমতলী-তালুকদার হাটের ভাঙ্গা এই অংশ দিয়ে রাতের বেলঅয় চলাচল করতে বেশি সমস্যা হচ্ছে।
পিকআপ চালক মো. রেজয়ান ইসলাম বলেন, মালবোঝাই গাড়ি নিয়ে ধসে যাওয়া সড়কটির ওই অংশ পার হতে অনেক ভয় করে। অকে আতঙ্কে থাকি কখন জানি দুর্ঘটনা ঘটে।
ঠিকাদার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান বাদল খান বলেন, ‘যেখানে সড়ক ধসে পরেছে সেখানে ফের নির্মাণকাজ করা হবে।
আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, সংবাদ পেয়েই ধসে যাওয়া সড়ক পরিদর্শন করেছি। সড়কের ওই অংশটা কালীবাড়ি খালের পাশ দিয়ে হওয়ায় সড়কের মাটির নীচ দিয়ে শুরুঙ্গ হয়েছে। শুরঙ্গের কারনে সড়ক ধসে পরেছে। ধসে পরার বিষয়টি উর্ধতন কর্তপক্ষের নিকট জানানো হয়েছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫০:১৯   ১২ বার পঠিত  |