ঢাকা    রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » খুলনা » উপকূলে কেওড়ার বাম্পার ফলনে বাড়ছে আয়ের সম্ভাবনা

উপকূলে কেওড়ার বাম্পার ফলনে বাড়ছে আয়ের সম্ভাবনা


আশরাফুল ইসলাম সবুজ,পাইকগাছা (খুলনা)
প্রকাশ: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


উপকূলে কেওড়ার বাম্পার ফলনে বাড়ছে আয়ের সম্ভাবনা নদীর চর ও লবণাক্ত জমিতে কেওড়া বন, প্রক্রিয়াজাতকরণে নতুন কর্মসংস্থানের আশা

খুলনা: সুন্দরবনসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে এবার কেওড়া ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। নদীর চর, বেড়িবাঁধের ঢাল ও লবণাক্ত জমিতে বেড়ে ওঠা কেওড়া গাছগুলোতে ঝুলছে থোকায় থোকায় ফল। ফলন ভালো হওয়ায় খুলনার উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় কেওড়া সংগ্রহ ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সহজলভ্য ও স্বল্পমূল্যের এ ফলটি মৌসুমি হলেও উপকূলের মানুষের জন্য তৈরি করেছে বাড়তি আয়ের সুযোগ।
উপকূলীয় জনপদে কেওড়া শুধু একটি ফল নয়, খাদ্যসংস্কৃতি ও জীবিকার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে এর ব্যবহার। টক স্বাদের এ ফল দিয়ে ছোট চিংড়ি কিংবা মসুর ডাল রান্না উপকূলের ঘরে ঘরে বেশ জনপ্রিয়। পাশাপাশি কেওড়া দিয়ে তৈরি করা যায় আচার, চাটনি, জ্যাম ও জেলিসহ নানা ধরনের খাদ্যপণ্য। ফলে স্থানীয়ভাবে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার শিবসা, ভদ্রা, মিনহাজ ও কপোতাক্ষ নদের চরাঞ্চলে সামাজিক বনায়নের পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবেও গড়ে উঠেছে প্রচুর কেওড়া গাছ। সুইচগেট ও নদীতীরবর্তী এলাকায় রোপণ করা গাছগুলোর বেশির ভাগই এখন ফলনে ভরপুর। পরিবারের চাহিদা মেটানোর পর বাড়তি কেওড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কেওড়া গাছ দ্রুতবর্ধনশীল এবং লবণাক্ততা সহিষ্ণু হওয়ায় উপকূলীয় পরিবেশে এটি সহজেই বেড়ে ওঠে। খুব বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন না থাকায় অনাবাদি ও লবণাক্ত জমিতেও কেওড়ার বাগান গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। ফাল্গুনের শেষ দিকে গাছে ফুল আসার পর চৈত্র থেকে ফল ধরতে শুরু করে। ভাদ্র-আশ্বিন পর্যন্ত পাওয়া যায় এ ফল। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কেওড়া বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে। দাম তুলনামূলক কম হলেও সহজলভ্য হওয়ায় ফল সংগ্রহকারীদের জন্য এটি বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।
বাতিখালি চর বনায়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামিরুল ইসলাম বলেন, অনাবাদি ও লবণাক্ত চরাঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে কেওড়া বনায়ন করা গেলে একদিকে উপকূলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
কেওড়ার গুরুত্ব শুধু ফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সুন্দরবনের মধু উৎপাদনেও এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মধু সংগ্রহের মৌসুমে মৌমাছি কেওড়া ফুল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মধু সংগ্রহ করে। একই সঙ্গে কেওড়া গাছের শক্তিশালী শ্বাসমূল জোয়ার-ভাটাপ্রবণ এলাকার মাটি আঁকড়ে ধরে উপকূলের ভাঙন রোধ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেওড়াকে শুধু মৌসুমি কাঁচা ফল হিসেবে বাজারজাত না করে প্রক্রিয়াজাত শিল্পের আওতায় আনা গেলে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহুগুণ বাড়তে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় নারীদের আচার, চাটনি, জ্যাম ও জেলি তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে ঘরে বসেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ রয়েছে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও বাজারজাতকরণ সহায়তা প্রয়োজন।
পাইকগাছা বন কর্মকর্তা প্রবীর বিশ্বাস জানান, উপজেলার বাতিখালি, হাড়িয়া, বেতবুনিয়া, জিরবুনিয়া, কাঠামারী ও দেলুটী এলাকায় প্রায় ১০০ হেক্টর নদীর চরে বনায়ন গড়ে তোলা হয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশই কেওড়া গাছ।
তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কেওড়াকে কেন্দ্র করে উপকূলীয় এলাকায় সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। এতে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়বে এবং উপকূলীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২১:৪৪:১৭   ৭ বার পঠিত  |