ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » বাউফলের কলেজে স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন

বাউফলের কলেজে স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন


ইউসুফ আলম সেন্টু, বাউফল (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাউফলের কলেজে স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী:বাউফল উপজেলার নওমালা আব্দুর রশিদ খান ডিগ্রি কলেজের রেজুলেশন বই গায়েব করা এবং সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে বর্তমান অধ্যক্ষ আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে ২০ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবদুল মালেক সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার ভাগ্নিজামাই এবং বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক।

নানা অনিয়মের অভিযোগে অধ্যক্ষ আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে বুধবার দুপুরে কলেজের একটি কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. নাসির উদ্দিনসহ স্থানীয় অভিভাবকেরা।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯৮ সালে এমপিওভুক্ত হয়। ওই বছরের ১৫ জুলাই কলেজটির অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান আবুল কালাম আজাদ। প্রথমে কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। পরে ২০০৮ সালে স্নাতক শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি লাভ করে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্নাতক শাখায় ২৯ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তাঁরা সবাই করোনাকালে সরকারিভাবে পাঁচ হাজার টাকা করে ভাতা পেয়েছিলেন।

২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ অবসরে যান। এরপর ওই কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবদুল মালেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৮ সালের ২০ আগস্ট দলীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করে তিনি অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভ করেন।

আবদুল মালেক তখন উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার একেএম নূরুল হুদার আপন ভাগ্নিজামাই।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের ম্যানেজ করে চাকরিতে আসেন।

সংবাদ সম্মেলনে কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. ইউনুচ মৃধা বলেন, স্নাতক শাখার যে ২৯ জন শিক্ষক করোনাকালীন ভাতা পেয়েছিলেন, তাঁরাই বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক। কিন্তু হঠাৎ করে তাঁরা দেখেন, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে প্রভাষক পদে লেমন রায়, ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে প্রভাষক পদে মো. মাসুদ এবং লাইব্রেরিয়ান পদে মো. বাহাউদ্দিন নামে তিনজন এমপিওভুক্ত হয়েছেন ও কলেজে আসছেন। এমপিওভুক্ত হওয়ার আগে তাঁরা কোনো দিন কলেজে আসেননি। করোনাকালীন ভাতার তালিকাতেও তাঁদের নাম নেই।

কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. নাসির উদ্দিন বলেন, মো. আসাদুজ্জামান নামে এক শিক্ষককে ২০০৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর স্নাতক শাখার ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ১৮ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন এবং করোনাকালীন ভাতাও পেয়েছিলেন। অথচ তাঁকে বাদ দিয়ে একই বিষয়ে মোছা. নাছিমা নামে আরেকজনকে সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের স্বাক্ষর স্ক্যান করে ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে এমপিও করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের সময়ের নিয়োগসংক্রান্ত রেজুলেশন বই গায়েব করে নতুন রেজুলেশন তৈরি এবং সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে বর্তমান অধ্যক্ষ আবদুল মালেক স্নাতক শাখার বিভিন্ন পদে অন্তত ২০ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। এভাবে তিনি কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তাঁদের অভিযোগ।

স্নাতক শাখার প্রভাষক আবদুর রহিম বলেন, তিনি বৈধভাবে নিয়োগ পেয়ে শিক্ষকতা করছেন এবং করোনাকালীন ভাতাও পেয়েছিলেন। অথচ তাঁর নাম এমপিওভুক্তির জন্য পাঠানো হচ্ছে না। রসায়ন বিষয়ের শিক্ষক মো. লিটন ও ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামানও একই কথা বলেন।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আবদুল মালেক বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তিরাই এমপিওভুক্ত হচ্ছেন। সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। করোনাকালীন ভাতাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে কীভাবে অন্য শিক্ষকেরা এমপিওভুক্ত হচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সবাই এমপিওভুক্ত হবেন। নতুন রেজুলেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রেজুলেশন বই হারিয়ে গেছে। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে নতুন রেজুলেশন বই কেনা হয়েছে।

তবে সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বর্তমান অধ্যক্ষ আবদুল মালেকের স্বাক্ষরিত এমপিওভুক্ত ও এমপিওভুক্ত নন এমন ৬৮ জন শিক্ষকের তালিকার মধ্যে ২০ জনের নামের সামনে ‘ভুয়া নিয়োগ’ লিখে রেখেছেন।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৪:১১   ৩ বার পঠিত  |