![]()
জন্ম থেকেই দুই হাত নেই মো. আলতাফ হোসেনের। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে পা দিয়ে লেখার পাশাপাশি বিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। তাঁর জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আলতাফ হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বুয়েট থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পেশা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো ভোলার রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে তিনজনই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তাঁদের কাজের প্রশংসা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’
নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন ২০০৭ সালে জেলার পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকলেও পা দিয়ে লেখা শিখেছেন তিনি। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা আরেক অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি নায়লা শারাফ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।
গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করেন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।
ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলও নিজ উদ্যোগে সমাজকল্যাণমূলক কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে গড়ে তোলেন নার্সারি। সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তাঁর লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তিনজনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং তাঁদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৪:২০ ৯ বার পঠিত | ● তারেক রহমান ● নায়লা শারাফ ● প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল ● মো. আলতাফ হোসেন