ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: জেলার কলাপাড়ায় রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী মিশ্রীপাড়া সীমা বৌদ্ধবিহারের মূল ফটক পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে শুক্রবার ভোর থেকেই পর্যটক ও দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে বিহারটি পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর রাতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়ার পর বিহারের মূল ফটকের তালা খুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৌদ্ধবিহার ও মন্দিরের আয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিহার কমিটি সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে একটি ছোট দোকান নির্মাণের কাজ শুরু করে।
এ সময় স্থানীয় দুই ব্যক্তি শামসুল আলম ও নাসির উদ্দিন হাওলাদার নির্মাণকাজে বাধা দেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার সকালে সীমা বৌদ্ধবিহারের সভাপতি রাখাইন মংলাচিংকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে নাসির উদ্দিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা বুধবার সকালে বিহারের সামনে দাঁড়িয়ে নীরব প্রতিবাদ জানান। পরে বুধবার সন্ধ্যা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রবেশ বন্ধের নোটিশসংবলিত ফেস্টুন টাঙিয়ে বিহারের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নাসির উদ্দিন হাওলাদারসহ দুজনকে আসামি করে মহিপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আরিফুজ্জামান ও মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শামীম হাওলাদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা রাখাইন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের পদক্ষেপে আপাতত শঙ্কা কেটে যাওয়ায় বিহার কমিটি মূল ফটক পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ইউএনও মোঃ আরিফুজ্জামান ও মহিপুর থানার ওসি মোঃ শামীম হাওলাদার জানান, রাখাইন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
তবে বিহারের মূল ফটক খুলে দেওয়া হলেও বিহারের অধ্যক্ষ উত্তম মহাথেরো কমিটির সভাপতিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার পাওয়া নিয়ে এখনও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এন/এস
বাংলাদেশ সময়: ২২:২৫:৫৩ ৪৩ বার পঠিত | ● কলাপাড়া ● পটুয়াখালী ● মিশ্রীপাড়া সীমা বৌদ্ধবিহার ● রাখাইন সম্প্রদায়