ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বরিশাল: একই স্কুল মাঠের পশ্চিম প্রান্তে মসজিদে হচ্ছে নামাজ,পূর্ব পাশে মন্দিরে দুর্গাপূজার অনুষ্ঠান, ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে মুসলিম ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মিলেমিশে পাশা-পাশি অবস্থানে স্ব-স্ব ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করে যাচ্ছেন।
এলাকার মুসলিম সমাজের মুসল্লিরা আজান শেষে মসজিদে প্রতি ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছে জামায়াতের সাথে, অন্যদিকে ওই গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বী লোকজন সারম্ভে পালন করছে শারদীয় দুর্গাপূজার অনুষ্ঠান।
মসজিদ থেকে মন্দির দূরত্ব মাঝ খানে একটি খেলার মাঠ, সেখানেও মুসলিম ও সনাতন ধর্মাবলম্বী শিশু শিক্ষার্থীরা মিলে-মিশে করছে খেলাধুলা। মসজিদ ও মন্দিরে নির্বিঘ্নে চলছে নামাজ ও দুর্গাপূজা। এ কারনে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ধর্মীয় সম্প্রীতির সহঅবস্থান, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ধর্মীয় সম্প্রীতির সেতু বন্ধন, ওই গ্রামের লোকজন সৃষ্টি করেছে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন। ৫ ওয়াক্ত আযানের পূর্বেই মাইক,সাউনবক্স,বাদ্যযন্ত্র নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশনা মন্দিরে টানিয়ে দিয়েছে পূজার আয়োজক কমিটি। ধর্মীয় সম্প্রীতির এমনি সেতুবন্ধন সৃষ্টি করেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পূর্ব বাগধা (দাসপাড়া) গ্রামের সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজায়। ধর্মীয় অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই গ্রামের বয়স্ক ব্যক্তি শিশু কিশোরসহ সকল বয়সের লোকজন।
রোববার বিকেলে সপ্তমী পূজায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বাগধা দাসপাড়া এসইএসডিপি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের পশ্চিম প্রান্ত বাগধা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বাইতুল আমান জামে মসজিদ। আসরের আযান হওয়ার পূর্বেই মন্দিরের মাইকসহ বাদ্যযন্ত্র বন্ধ, আযান হওয়ার পরে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলিম সমাজের লোকজন মসজিদে নামাজের জন্য সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করে জামাতে নামাজ আদায় করছে।
এসময় মাঠে ফুটবল খেলছে বাগধা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী-আবির ইদ্রিস, অর্ক মন্ডল, আত্তাহি বক্তিয়ার, আবু হানিফ মোল্লা, অংকন দাস, মুমিন তাজ, নীরব বাড়ৈ,আবিদ বক্তিয়ার,জয়দেব দাস, সালমান হাওলাদার, স্বাধীন মন্ডল,অভিসহ অনেকে, এসব শিশু কিশোরদের মনেও নেই ধর্মীয় কোন মত পার্থক সবাই মিলে-মিশে প্রতিদিন এ মাঠে খেলাধুলা করে।
মন্দিরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে এলাকার নারী-পুরুষ কিশোর-কিশোরি সবাই একসাথে উপভোগ করছে, নেই কোন বয়সের ভেদাভেদ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে দূর থেকেও পরিবারসহ আসছে বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীরা। তাদের মাঝে দেখা যায়নি ধর্মীয় অনুভূতির কোন মত পার্থক্য। স্কুল মাঠে পূর্ব পাশে দুর্গা মন্দিরের দক্ষিণ পাশেই রয়েছে বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন,
পশ্চিম পাশে জামে মসজিদের সাথেই রয়েছে পূর্ব বাগধা দাস পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাঠের (দক্ষিণ-পশ্চিম কনারে) জামে মসজিদ এবং মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঝে রেজিস্টিকৃত একটি ক্লাব।
নামাজ শেষে স্কুল মাঠের পূর্ব পাশে দুর্গা মন্দিরে আগত সনাতন ধর্মাবলম্বী দর্শনার্থী নারী-পুরুষ ভক্তবৃন্দরা পূর্ণ ভক্তি শ্রদ্ধার সাথে সারম্ভে দুর্গা দেবির চরণে প্রণাম করছ, মন্দির আঙিনায় ঢাকের বাদ্য,শঙ্খ, উলুধ্বনি ও আড়তি শেষে উপস্থিত ভক্তবৃন্দের মাঝে সুরু হয় প্রসাদ বিতরণ।
একটি স্কুল মাঠের পশ্চিম পাশে মসজিদ, আর পূর্ব পাশে মন্দির পাশা-পাশি স্ব-স্ব ধর্মীয় ব্যক্তিদের নির্বিঘ্নে মসজিদের নামাজ, মন্দিরে পূজা দেখে দূর-দূরান্ত থেকে দুর্গাপূজার প্রতিমা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে আশা দর্শনার্থীরা বিষয়টি দেশের অসম্প্রদায়িক ধর্মীয় সম্প্রীতির সহ অবস্থান বলে মন্তব্য করেছেন।
এ ব্যাপারে বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি বলেন, বাগধা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মসজিদ মন্দির স্কুল ও সরকারী রেজিস্ট্রিকৃত একটি ক্লাব রয়েছে, আমি বিগত ২৪ বছর যাবত চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় অধিকাংশ স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছে, একই মাঠের দু প্রান্তে মসজিদ ও মন্দিরে যার-যার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে সম্প্রীতি বজায় রেখে অনুষ্ঠান হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের এলাকার জন্য গর্বের বিষয়।
ওই গ্রামের জব্বার মিয়ার ছেলে মসজিদের মুসল্লি মোঃ খলিল মিয়া বলেন, আমরা এলাকার হিন্দ মুসলিম সবাই পাশাপাশি বাড়িতে মিলেমিশে বসবাস করি তেমনি একই মাঠে মসজিদ ও মন্দির থাকায় নির্বিঘ্নে নিজ-নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছি, এ নিয়ে কোন দিন কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগও নেই।
পূর্ব বাগধা দাসপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির যুগ্ম সম্পাদক (পূজার দায়িত্ব) উজ্জ্বল দাস জানান এই মাঠের পূর্ব পাশে ১৯৯০ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং ২০০৭ সালে মাঠের পশ্চিম প্রান্তে জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে, আমরা সবাই মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছি, এতে আমদের কখনো কোন সমস্য হচ্ছে না।
পূর্ব বাগধা জামে মসজিদ, দুর্গা মন্দির, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ ও ক্লাব এর ভুমিদাতা বিমল দাস বলেন, আমার বাবা নিলকান্ত দাস, কাকা রাখাল চন্দ্র দাস ও ভাই কালিপদ দাস, মসজিদ মন্দির স্কুলসহ ইউনিয়ন পরিষদে জায়গা দান করে দিয়েছি, আমরা বাপ দাদার আমল থেকে হিন্দু মুসলিম ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সু-সম্পর্ক বজায় রেখে বসবাস করে আসছি।
স্থানীয় মুসল্লি মোঃ আলী আজগর হাওলাদার নামাজ শেষে বেরিয়ে জানান, একই মাঠের মসজিদে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের সময় মন্দিরের মাইক ঢাক-ঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখে, আমরাও তাদের মন্দিরে পূজা অর্চনার সময় সহযোগিতা করে আসছি। এটাই আমাদের ধর্মীয়সহ অবস্থানের নিদর্শন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:৩৩:১৮ ২০ বার পঠিত | ● নামাজ ● পুজা ● মন্দির ● মসজিদ