ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: গলাচিপায় মা-ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ শিকার ও বিক্রি চলছে। একটি প্রভাবশালী চক্রের সহযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন নদনদী ও উপকূলীয় এলাকায় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ এবং গোপনে বেচাকেনা হচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও দালাল ও নির্ধারিত ক্রেতাদের মাধ্যমে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি স্থানে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয় সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, অপরিচিত ক্রেতার কাছে সরাসরি মাছ বিক্রি করা হয় না। নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে ক্রেতার পরিচয় নিশ্চিত করার পর চাহিদা অনুযায়ী ইলিশ সরবরাহ করা হয়। কোথাও কোথাও নির্ধারিত স্থানে টাকা রেখে মাছ সংগ্রহের ব্যবস্থাও রয়েছে।
ক্রেতা সেজে চরবিশ্বাস ইউনিয়নের জেলে মো. মান্নানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ইলিশ চাওয়ার পর তিনি প্রথমে নাম-পরিচয় জানতে চান। পরে ক্রেতার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে দুপুর ২টার দিকে চরআগন্তি বাজারে অপেক্ষা করতে বলেন। ওই সময়ের পর সেখানে ইলিশ সরবরাহের আশ্বাস দেন তিনি।
একই এলাকার মো. মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও কয়েক দফা প্রশ্ন করে ক্রেতার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ইলিশের আকারভেদে দাম জানান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা, এক কেজির কম ওজনের ইলিশ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং ছোট ইলিশ কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে তিনি সরাসরি মাছ দিতে রাজি হননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চরকাজল এলাকার মিজানের ওয়ার্কশপে টাকা রেখে গেলে সেখানেই চাহিদামতো ইলিশ পৌঁছে দেওয়া হবে।
জানা গেছে, গলাচিপা পৌর এলাকাসংলগ্ন রামনাবাদ নদী, চিকনিকান্দির দয়াময়ী মন্দিরসংলগ্ন তেঁতুলিয়া পয়েন্ট, বদনাতলীর তেঁতুলিয়া পয়েন্ট এবং পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকার আগুনমুখা মোহনায় রাতের আঁধারে জাল ফেলা হচ্ছে।
এ ছাড়া উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের লঞ্চঘাট, চরশিশা লঞ্চঘাট ও বড় শিবা; চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরআগন্তি, জিমতলা, নমোর ব্লুইসগেট, আমড়াগাছিয়া, চরবাংলা খেয়াঘাট ও চরবাংলা; রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী ও পাভাবুনিয়া ব্লুইসগেট; সদর ইউনিয়নের চরকারফারমা, পানপট্টি লঞ্চঘাট, বোয়ালিয়া সুইসগেট, পক্ষিয়া সুইসগেট, লোন্দা গ্লুইসগেট এবং গলাচিপা-পাটুয়া খেয়াঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ ও বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের ট্রলার দেখলে জেলেরা বন বিভাগের সংরক্ষিত বনে আশ্রয় নিয়ে আত্মগোপন করেন। তবে সম্প্রতি চরবিশ্বাস ইউনিয়নের দুর্গম নমোর ব্লুইস এলাকায় অভিযান চলাকালে একদল জেলে প্রশাসনের ট্রলারকে ধাওয়া করে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সেখানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অভিযান বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। প্রশাসনের অভিযান চললেও ইলিশ শিকার ও বিক্রি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে কথা বলতে অনেকে সাহস পান না। তাঁদের দাবি, মাছ ধরতে যাওয়ার সময় নৌকায় বা মাছের কাছে মোবাইল নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।
গলাচিপা উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২৮৫ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ১২টি মামলায় ছয় জেলেকে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের জালও জব্দ করা হয়।
গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, মৎস্য অফিসসহ সরকারি বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় সব স্থানে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব না হলেও সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
চরবিশ্বাসের নমোর সুইস এলাকায় অভিযানে বাধার বিষয়ে তিনি বলেন, এলাকাটি দুর্গম। সেখানে অভিযান চলাকালে সংঘবদ্ধ একটি চক্র তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং ডাক-চিৎকার করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৯:১৫:১৭ ৬ বার পঠিত | ● গলাচিপা উপজেলা মৎস্য অফিস ● গলাচিপায় অবৈধ ইলিশ শিকার ● পটুয়াখালী ইলিশ বিক্রি ● মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান