ঢাকা    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রচ্ছদ » শিরোনাম » থানার লকাপে ছাত্রলীগ নেতার ভিডিও ধারণ, সহযোগী গ্রেপ্তার; ডিউটি অফিসার ক্লোজ

থানার লকাপে ছাত্রলীগ নেতার ভিডিও ধারণ, সহযোগী গ্রেপ্তার; ডিউটি অফিসার ক্লোজ


নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


থানার লকাপে ছাত্রলীগ নেতার ভিডিও ধারণ, সহযোগী গ্রেপ্তার; ডিউটি অফিসার ক্লোজ

হবিগঞ্জ: বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক ছাত্রলীগ নেতার থানার লকাপে ভিডিও ধারণের অভিযোগে তাঁর সহযোগী শাহ জুয়েলকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাঁর মোবাইল ফোন জব্দ করে একই মামলায় তাঁকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট থানার ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী হাসানকে ক্লোজ করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামের শাহ ফিরোজ মিয়ার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা শাহ তপুকে এলাকা থেকে এসআই আসিফের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওসির নির্দেশে গ্রেপ্তার করে। থানার হাজতে থাকা অবস্থায় তপুর সহযোগী শাহ জুয়েল কৌশলে তাঁর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। পরে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেনের নির্দেশে পুলিশ শাহ জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ ও থানা সূত্রে জানা যায়, বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারের পর ছাত্রলীগ নেতা শাহ তপুকে থানার লকাপে রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে তাঁর সহযোগী শাহ জুয়েল গোপনে থানায় প্রবেশ করে লকাপে থাকা তপুর ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা তাঁকে লকাপের লোহার খাঁচায় আটকে দেন।

আটকের পর শাহ জুয়েলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ফোনে তপুর ধারণ করা ভিডিও ও অন্যান্য আলামত পাওয়ায় পুলিশ তাঁকে তপুর সঙ্গে একই বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।

এদিকে, সুরক্ষিত থানার লকাপের মতো সংবেদনশীল এলাকায় কীভাবে বা কার গাফিলতিতে একজন বহিরাগত প্রবেশ করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটিকে গুরুতর নিরাপত্তার ঘাটতি ও দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে দেখেছে থানা প্রশাসন। পরে ওই সময় দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসারের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন জানান, থানার হাজতখানার মতো স্পর্শকাতর স্থানে অবৈধভাবে ভিডিও ধারণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আসামির সহযোগীকে হাতেনাতে আটক করে একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঘটনার সময় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৫৪:০৫   ৬ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●