ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রচ্ছদ » খুলনা » কয়রায় মাদ্রাসার ১২ লাখ টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ, বন্ধের নির্দেশ

কয়রায় মাদ্রাসার ১২ লাখ টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ, বন্ধের নির্দেশ


তারিক লিটু,কয়রা ( খুলনা )
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


কয়রায় মাদ্রাসার ১২ লাখ টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ, বন্ধের নির্দেশ

খুলনা: কয়রা উপজেলার অর্জুনপুর হাসনিয়া দাখিল মাদ্রাসার সীমানাপ্রাচীর, গেট ও শিক্ষার্থীদের গ্যারেজ নির্মাণে ১২ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজে সিমেন্ট, বালু ও খোয়া কম ব্যবহার এবং প্লাস্টার খসে পড়ার অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নির্মাণকাজের মান নিয়ে মাদ্রাসার সুপার ইদ্রিস আলীর কাছে জবাবদিহি চাইতে দেখা যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ সময় স্থানীয় যুবক শাহীন আলমসহ কয়েকজনকে কাজের অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বরাদ্দ দেওয়া ১২ লাখ টাকার এ প্রকল্পে নির্ধারিত মান অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না। সিমেন্ট, বালু ও খোয়া কম ব্যবহার করায় নির্মিত অংশের স্থায়িত্ব নিয়ে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কাজের মান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার দাবি জানান।

স্থানীয় যুবক শাহীন আলম বলেন, প্রকল্পে নির্ধারিত পরিমাণে সিমেন্ট, বালু ও খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে তাঁদের অভিযোগ। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল বাকিকে মোবাইলে জানানোর পর তিনি কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্মাণকাজের প্লাস্টার নিম্নমানের। তাঁদের আশঙ্কা, নির্মাণসামগ্রীর যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় কাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে যাচাই করা প্রয়োজন।

কয়রা উপজেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ধনঞ্জয় কুমার মিস্ত্রি বলেন, তিনি বিষয়টি জেনেছেন এবং নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তখনো তিনি মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেননি। সরেজমিনে গিয়ে কাজের মান ও অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

মাদ্রাসার সুপার ইদ্রিস আলী বলেন, ইউএনও বিষয়টি জানার পর কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনিও চান, নির্মাণকাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হোক। প্রকল্পের কাজ প্রায় এক মাস ধরে চলছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্পের নির্মাণকাজের মান যাচাই, বরাদ্দ অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করবে।

বাংলাদেশ সময়: ১:০৫:১৪   ৮ বার পঠিত  | ●   ●   ●