![]()
ঢাকা: দোহার উপজেলায় স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া এবং পরে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের খাসিরটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত গৃহবধূ পপি (৩৪) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে মুকসুদপুর ইউনিয়নের খরিয়া এলাকার জিকির কারিগরের ছেলে আনোয়ারের (৩৭) সঙ্গে খাসিরটেক এলাকার আসেছ চৌকিদারের মেয়ে পপির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আনোয়ার তাঁর স্ত্রীকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই মাস আগে ৫ মাসের সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন পপি।
স্বজনদের দাবি, একাধিকবার পপিকে নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে বললেও তিনি রাজি হননি। এর জেরে বৃহস্পতিবার সকালে শ্বশুরবাড়িতে আসেন আনোয়ার। এ সময় পপি তাঁর পাঁচ মাসবয়সী শিশুকে স্বামী আনোয়ারের কোলে দিয়ে পানি আনতে গেলে পেছন থেকে তাঁর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এরপর সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে পপির পেটে একাধিকবার আঘাত করেন আনোয়ার।
পপির চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান আনোয়ার। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় পপিকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও আঘাতের গুরুতর অবস্থা বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসক।
পপির বোন স্বর্ণা ও চাচা দানেছ চৌকিদার এশিয়া বার্তাকে জানান, বর্তমানে পপি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার পেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং শরীরের বড় একটি অংশ পুড়ে গেছে। এ কারণে তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানান তাঁরা।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আনোয়ার ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফুলতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুস সালাম বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযুক্ত আনোয়ার ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে গেছেন। আনোয়ারকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
বাংলাদেশ সময়: ২৩:১১:০৩ ৯ বার পঠিত |