ঢাকা    সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » হাতিয়ায় চার দোকর দখল করে তালা, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

হাতিয়ায় চার দোকর দখল করে তালা, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ


হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬


হাতিয়ায় চার দোকর দখল করে তালা, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

নোয়াখালী: হাতিয়ায় বাজারে বেচাকেনা চলার সময় দোকানিদের বের করে দিয়ে চারটি দোকানঘরে তালা লাগিয়ে দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবকদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম দিনাজ উদ্দিন। তিনি জাহাজমারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।

সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন। এর আগে রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত দিনাজ উদ্দিন জাহাজমারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মনির উদ্দিনের ছেলে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে ভোগদখল করে আসছেন স্থানীয় নাসির উদ্দিন ও তাঁর ভাই। জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত কাগজপত্রও তাঁদের কাছে রয়েছে। তবে গত কয়েক বছর ধরে দিনাজ উদ্দিন ও তাঁর বাবা ওই জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে তাঁরা আদালতে মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত রবিবার বিকেল ৪টার দিকে দিনাজ উদ্দিন ও তাঁর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক দোকানঘরগুলোতে প্রবেশ করেন। এ সময় দোকানে বেচাকেনায় ব্যস্ত ব্যবসায়ীদের বের করে দিয়ে ঘরগুলোতে তালা লাগিয়ে দেন তাঁরা। নাসির উদ্দিন ও তাঁর ভাই বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাঁদের ভয়ভীতি দেখান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

পরে নাসির উদ্দিন সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, দোকানঘরের তালা খুলে দেওয়া এবং তাঁর ও তাঁর ভাইয়ের মালিকানাধীন সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়। সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জাহাজমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মমিনুল হককে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা দিনাজ উদ্দিন বলেন, “তারা ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব দেখিয়ে আমাদের এই জায়গা দখল করে। এরপর আমরা দেওয়ানি মামলা করি। সরকার পতনের পর নৌবাহিনীর কারণে আমরা দখলে যেতে পারিনি। গতকাল হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। সেখানে তারা মালিকানার কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এই জায়গা আমাদের, তাই আমরা দখলে নিয়েছি।”

এ বিষয়ে জাহাজমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মমিনুল হক বলেন, “সহকারী পুলিশ সুপার মহোদয় আমাকে মৌখিকভাবে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সরেজমিনে গিয়ে দোকানঘরে তালা দেওয়ার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশ ছাড়া কেউ কারও ঘরে তালা দিতে পারেন না। তাঁদের পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৪৪:২৪   ৭ বার পঠিত  | ●   ●   ●