![]()
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগরে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে এক দলীয় নেতার করা মামলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা।
উপজেলার নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ মোল্লা সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। এতে নাটঘর বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম, সাবেক পৌর মেয়র মাঈনউদ্দিন মাইনু, জেলা বিএনপির সদস্য হযরত আলীসহ ১১ জন।
বিক্ষোভ মিছিলটি আধুনিক সমবায় মার্কেট থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে থানা ফটকের সামনে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নবীনগর উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মফিজুল ইসলাম মুকুল। পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আলী আজমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন আবু সায়িদ, রুবেল আক্রাম, আপেল মাহমুদ, তফিকুল ইসলাম তপু, টিপু সুলতান ও জাহিদ হাসান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নাটঘর ইউনিয়নের একইছড়া গ্রামে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে বিএনপি কার্যালয়সহ কয়েকটি দোকানে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ নয় মাস পর বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাঁরা এসব মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নেতাকর্মীদের হয়রানি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাঁরা অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন জেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হোসেন তাপস। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ায় তাপসসহ একাধিক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় গত ১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ওই ইউনিয়নের একাইছুড়া গ্রামে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি কার্যালয়সহ চারটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তখন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত দেখা যায়। কেউ ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে দাবি করেন, আবার কেউ বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানান।
নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ অভিযোগ করেন, নাটঘর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ধানের শীষের পথসভা শেষে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ফুটবল মার্কার সমর্থক হযরত আলী তাঁকে ফোনে হুমকি দেন। এর পর রাত ১১টার দিকে তিনি নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে আগুন লাগার খবর পান।
এত দিন পর মামলা করার কারণ জানতে চাইলে আবু হানিফ বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন একটা পরিবেশের মধ্যে আছি, মামলাটা করতে বাধ্য হয়েছি। মামলাটা না করলে আমার মরণ-বাঁচনের প্রশ্ন ছিল।’
অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সদস্য হযরত আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। আমি কাউকে হুমকি দিইনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত।’
এ অভিযোগে দায়ের করা মামলা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪১:৪৭ ১৮ বার পঠিত | ● আবু হানিফ মোল্লা ● নবীনগর বিএনপি ● বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ● হযরত আলী