ঢাকা    শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » কাউখালীতে ইউএনও সেজে মুক্তিযোদ্ধার ৪২ হাজার টাকা আত্মসাৎ

কাউখালীতে ইউএনও সেজে মুক্তিযোদ্ধার ৪২ হাজার টাকা আত্মসাৎ


কাউখালী ( পিরোজপুর ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬


কাউখালীতে ইউএনও সেজে মুক্তিযোদ্ধার ৪২ হাজার টাকা আত্মসাৎ

পিরোজপুর: পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পরিচয় দিয়ে সরকারি অনুদানের প্রলোভন দেখিয়ে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে ৪২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর মেরামতের জন্য সরকারি অনুদান দেওয়ার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে এই টাকা নেওয়া হয়। একই কায়দায় উপজেলার আরও এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছেও টাকা দাবি করেছে চক্রটি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড় বিড়ালজুরি ও কচুয়াকাঠি এলাকায় এ প্রতারণার ঘটনা ঘটে। প্রতারণার শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম খাইরুল আলম ফিরোজ (৭৫)।

ভুক্তভোগী খাইরুল আলম ফিরোজ জানান, শুক্রবার সকালে বিড়ালজুরি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজম আলী খান তাকে জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর মেরামতের জন্য সরকারি অনুদানের টাকা এসেছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরিচয়ে ০১৩১৯৬৭৯০৪৩ নম্বর থেকে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

পরে ওই নম্বরে ফোন করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর মেরামতের জন্য ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই টাকা পেতে ফাইল প্রস্তুত ও অন্যান্য খরচ বাবদ ০১৮৮১৪২১৭৬৮ নম্বরে তাৎক্ষণিক ৪২ হাজার টাকা পাঠাতে হবে বলে জানান তিনি। তার কথায় বিশ্বাস করে কোনো কিছু যাচাই না করেই বিকাশের মাধ্যমে ওই নম্বরে ৪২ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন খাইরুল আলম ফিরোজ। পরে খোঁজখবর নিয়ে বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছেন।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আজম আলী খান বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ০১৩১৯৬৭৯০৪৩ নম্বর থেকে তার কাছে ফোন আসে। অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তার এলাকায় কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা থাকলে যোগাযোগ করিয়ে দিতে বলেন। তাদের জন্য বরাদ্দ বা ভাতা রয়েছে বলেও জানান। পরে তিনি বিষয়টি তার ওয়ার্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল আলম ফিরোজকে জানান। পরবর্তী সময়ে জানতে পারেন, এটি প্রতারণার ঘটনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু খাইরুল আলম ফিরোজ নন, কাউখালী সদর ইউনিয়নের কচুয়াকাঠি এলাকার আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকেও একই কায়দায় ফোন করেছিল প্রতারক চক্রটি। ঘর মেরামতের সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে তার কাছেও ৪২ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার বলেন, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এটি সম্পূর্ণ সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ। সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে তার কোনো দাপ্তরিক নির্দেশনা বা এ ধরনের কোনো কার্যক্রম নেই। এ ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কাউখালী থানার ওসিকে অবহিত করা হয়েছে।

প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারি কোনো বরাদ্দ বা অনুদানের কথা বলে ব্যক্তিগত নম্বরে টাকা চাওয়া হলে তা যাচাই না করে লেনদেন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ০:০৭:৩৩   ১২ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●