ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নোয়াখালী: বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বি এন পির ৪৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা র্যালি ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায়
বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালি ও শোভাযাত্রাটি উপজেলার উত্তর মাথা হোটেল রেড সির সামনে থেকে শুরু হয়ে উপজেলা সদর পদক্ষিন শেষে এ এম উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ।
পৌরসভা বিএনপির সভাপতি প্রভাষক মোকাররম বিল্লাহ শাহাদাতের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক খোকন। সহ সভাপতি মাসউদুর রহমান বাবর, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাবেক ভিপি আমিরুল হায়দার চৌধুরী সাজ্জাদ। লুৎফুল্লাহ হিল মজিদ নিশান। পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সম্পাদক আশিক ইকবাল উদ্দীন। পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিল্লাতুর রহিম মিলাদ ।
জেলা যুবদলের সদস্য সাব্বির উদ্দিন মাসুম। তমরদ্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তানভীর হায়দার। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন ইলিয়াছ সদস্য সচিব ফাহিম উদ্দিন, পৌরসভা যুবদলের আহবায়ক মোমিন উল্যাহ রাসেল, সদস্য সচিব কাউসার মোস্তফা, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক নজরুল ইসলাম আদনান, সদস্য সচিব সুমন তালুকদার, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আকরাম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক রিয়াজ মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আইউব চৌধুরী,সদস্য সচিব আব্দুল হালিম,পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম দুখু,সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।
সাবেক ভিপি আমিরুল হায়দার চৌধুরী সাজ্জাদ বলেন, জুলাই বিপ্লবের এক বছর পার হলেও এখনও ফ্যাসিবাদী আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয়নি। বরং দেখা যাচ্ছে, সেই গণহত্যার আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা দ্রুত বিচার ও বিচার বিভাগের কাঠামোগত সংস্কার দাবি করছি।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারে থেকেও কেউ কেউ আন্দোলনের অংশীদারদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। এই অপপ্রয়াস শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি। নতুন বাংলাদেশে এই বেইমানদের কোনো স্থান হবে না। আজ কিছু রাজনৈতিক শক্তি এই আন্দোলনের ভূমিকা অস্বীকার করছে- আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আজকের এই দিনে রাজনৈতিক সংগ্রামের রূপরেখা তুলে ধরার এক মঞ্চ। স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে দীর্ঘ দমন–পীড়নের ইতিহাস, ভোটাধিকার হারানোর বেদনা, আবার ভবিষ্যতের আন্দোলনে দৃঢ় প্রত্যয়ের আহ্বান। হাতে দলীয় পতাকা, পোস্টার, ব্যানার—কর্মীরা ভিড় জমালেন র্যালিতে। ঢোলের শব্দ, স্লোগান আর নেতৃত্ব পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকারে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে ছোট্ট উপজেলা শহর। চারদিকে এক ধরনের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে, যেন এই আয়োজন কেবল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়, বরং দীর্ঘ আন্দোলনের প্রস্তুতির বার্তা।
প্রধান অতিথি এ কে এম ফজলুল খোকনের বক্তব্যে ছিল ক্ষোভ আর দৃঢ়তা—“দেশ আজ কঠিন সময় পার করছে। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঠে থাকতে হবে। গত ১৭ বছরে বিএনপির তিন হাজার নেতা–কর্মী গুম হয়েছেন, ষাট লাখ মানুষ মামলা–হামলার শিকার হয়েছেন। ফ্যাসিস্টদের কারণে আমরা মসজিদে মিলাদও করতে পারিনি।”
ছিল আন্দোলনে নিহতদের স্মৃতিচারণ। বক্তারা দাবি তুলেছেন, ৫ আগস্টের শহীদ পরিবারদের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের পুনর্বাসন দিতে হবে। এতে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বারবার স্লোগানে ফেটে পড়েন। দীর্ঘ দমন–পীড়ন, মামলা–হামলায় সংগঠনটি ভাঙা–গড়ার মধ্যে দিয়ে গেছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যে যে হতাশার পাশাপাশি দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ পেয়েছে, তা ভবিষ্যতে রাজপথের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়েও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিত ছিলেন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:০২:৩৬ ১২৫ বার পঠিত | ● প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ● বিএনপি ● হাতিয়ায