ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
হবিগঞ্জ: নবীগঞ্জে মোবাইল চোর ধরতে অভিযান ছয় পুলিশকে মারপিট করে চুরির মামলার দুই আসামী ছিনতাই করা হয়েছে। নবীগঞ্জ থানা পুলিশ চোরাই মোবাইল উদ্ধার করতে গিয়ে চোর এবং তার পরিবারের লোকজনের হামলায় ৩ দারোগাসহ ৬ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশের মামলা দায়ের,গ্রেফতার ৪ জন। এটা কোন পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে পুলিশের উপর হামলার ঘটনা নাকি তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় আহত কনস্টেবল ইমরানকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আহত ৬ পুলিশকে হাসপাতালে চিাকৎসা দেয়া হয়েছে । এর মধ্যে গুরুতর আহত কনস্টেবল ইমরানকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আহত এসআই মেহেদী, এসআই মাইনুল ও এএসআই মোশাররফ সহ ৫জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে মঙ্গলবার রাত ১১ টার দিকে শহরের ফুলকলির পিছনে শিবপাশা এলাকায়। পরে খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে আহতদের উদ্ধার এবং ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মামুন মিয়াসহ ৪জনকে আটক করেছে।
এব্যাপারে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার বলেছেন, যারা পুলিশের উপর হামলা করে আসামি ছিনতাই করে তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। ঐ এলাকায় গ্রেফতার অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এই বিষয়ে নবীগঞ্জ থানায় পুলিশ এসল্ট মামলা হয়েছে।
সুত্র জানায়, পুলিশ সদস্যকে মারপিট করে বাকীরা নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য মোবাইল ফোন চুরির মামলার দুই আসামীকে ছিনিয়ে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত কনস্টেবল ইমরান নবীগঞ্জ থানার ওসি শেখ কামরুজ্জামানের গানম্যান হিসাবে কর্মরত ছিলেন। গতকাল রাতে ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ রাত সাড়ে ১০টায় শহরের আনমনু এলাকায় সোহেল নামে মোবাইল চুরির মামলার এক আসামীকে গ্রেপ্তার করে।
পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করতে শহরের শিবপাশা নোয়াপাড়া এলাকায় গিয়ে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হয়। ওসি কামরুজ্জামান বলেন, চুরির মামলার আসামী সোহেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাবুল ও রুমন নামে দুইজনকে ধরতে গেলে তাদের সহযোগীরা আমাদের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। কনস্টেবল ইমরানের চোখের নিচে দায়েরর কোপ লেগেছে। তারা বাবুল ও রুমনকে ছিনিয়ে নেয় এবং সোহেলকে গ্রেপ্তার করার পর থানায় আনা হয়েছে। ৫ পুলিশ সদস্য চিকিৎসা নিয়ে থানায় ফিরেছেন, তবে ইমরানকে গুরুতর অবস্থায় সিলেটে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনা পুলিশ এসল্ট মামলা দায়ের হচ্ছে।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শহর ও আশপাশ এলাকায় মোবাইলসহ চুরি ও মাদকের ছড়াছড়ি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওসি শেখ কামরুজ্জামান এর দিক নির্দেশনায় পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তারই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মেহেদী, এসআই মাইনুল, এএসআই মোশাররফ এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ শিবপাশা এলাকায় চোরাই মোবাইল উদ্ধার করার জন্য হানা দেয়। এ সময় চোরদের সিন্ডিকেট চক্র ও তাদের পরিবারের লোকজন পুলিশের উপর অর্তকিত হামলা চালায়।
এক পর্যায়ে মামুন মিয়া নামে এক যুবক ধারালো দা দিয়ে কুপ দিলে কনস্টেবল ইমরান গুরুতর আহত হয়। তাকে রক্ষা করতে দারোগাসহ অপর পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে গেলে তারাও হামলার শিকার হয়ে আহত হন। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন এবং দা হাতে থাকা রিমনসহ ৪ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ধৃত মামুন মিয়া নোয়াপাড়া গ্রামের মৃত হিরণ মিয়ার ছেলে । তারা দীর্ঘদিন ধরে শিবপাশা এলাকায় বসবাস করে আসছেন। ওই পরিবারের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
এব্যাপারে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার এমএ এন সাজেদুর রহমান বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক একটি মোবাইল চোর ধরতে গিয়ে ৬জন পুলিশ আহত । এটা কোন পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে পুলিশের উপর হামলার ঘটনা নাকি তদন্ত করা হচ্ছে। যারা পুলিশের উপর হামলা করে আসামি ছিনতাই করে তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। ঐ এলাকায় গ্রেফতার অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এই বিষয়ে নবীগঞ্জ থানায় পুলিশ এসল্ট মামলা হয়েছে। মুল হামলাকারীসহ তার সহযোগিদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩১:১৫ ৫৮ বার পঠিত | ● ছিনতাই ● নবীগঞ্জ ● পুলিশ . আসামী