ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
বগা সেতু নির্মানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে মন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন উলিপুরে ভূমি সেবা মেলা উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা গোবিন্দাসী ৫ কোটি টাকার গরুর হাটের ইজারা মূল্য এখন অর্ধ কোটি! ভেড়ামারায় ‘ভূমি সেবা মেলা বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন বানিয়াচংয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস সাধু বাবার আস্তানায় ধর্ষণের শিকার নারী টানা দ্বিতীয়বার ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি সালথার বাবলুর রহমান খান নবাবগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহের উদ্বোধন বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক হলেন খোকন কলাপাড়ায় সৌদিপ্রবাসী নারীর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » শিরোনাম » শেরখাই ও নরখাই নদীর মাটি লুট আমরা করবো কি, গদা গরম বেশি বললে মাইর খাবো

শেরখাই ও নরখাই নদীর মাটি লুট আমরা করবো কি, গদা গরম বেশি বললে মাইর খাবো


এম,এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬


 আমরা করবো কি, গদা গরম বেশি বললে মাইর খাবো

হবিগঞ্জ: নবীগঞ্জের আলোচিত প্রকল্প শেরখাই ও নরখাই নদীর জাইকার খাল খনন। সারাদেশের ন্যায় নবীগঞ্জের খাল খনন শুরুর আগেই বড় ধরনের দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে। শেরখাই ও নরখাই নদীর খাল খনন নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পত্র পত্রিকায় একাধিক নিউজ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখি হলেও কেন কর্নপাত করছেন না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে প্রকল্প কমিটির খুঁটির জোর কোথায় ! কেউ বলছেন শষ্যের মধ্যে ভুত থাকলে তাড়াবে কে ? প্রকল্প কমিটির নেতারা বলছেন, আমাদের বৃদ্ধা আঙ্গুল গুজো করার ক্ষমতা কারোর নেই, আমরা ম্যানেজ করেই সব কিছু করছি।

প্রকল্প এলাকার কয়েক লক্ষ ঘনফুট সরকারী জায়গার মাটি প্রভাবশালীরা নিয়ে গেছেন। কেউ মাটি দিয়ে ভরাট করেছেন বাড়িঘর, পুকুর, ব্যক্তিগত রাস্তাঘাট, স্কুলের খেলার মাঠ,ফসলি জমি। এলাকাবাসী মাটি বিক্রির অভিযোগ করলে, প্রকল্প কমিটি বলছেন, তারা মাটি বিক্রি করেননি, লোকজনকে ফ্রি মাটি সরবরাহ দিয়েছেন। এখন সচেতন মহলের দাবি, সরকারী প্রজেক্টের মাটি কি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার বিধান রয়েছে কি ? নবীগঞ্জ প্রকৌশলী অফিস বলছে সরকারী মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার বিধান নেই। তাহলে নবীগঞ্জ ভুমি অফিস বা প্রকল্প সংশ্লিষ্ঠ প্রকৌশলী অফিস ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন ? তাদের রহস্যজনক নীরবতাই এখন বড় প্রশ্ন ! এবিষয়ে হবিগঞ্জ দূর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আর্কষন করেও ফেসবুকে পোষ্ট হচ্ছে। একজন ক্ষোভেরর ভাষায় বললেন, “ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুর অন্তরে” সেই শিশুদের জাগাবে কে ?
নবীগঞ্জে প্রায় ছয় কোটি, ১২লাখ টাকার শেরখাই ও নরখাই নদী খনন প্রকল্পের কাজ বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। নদীতে পানি ওঠায় বর্তমানে খননকাজ চালানো যাচ্ছে না। নদী পানি টইটম্বুর হওয়ার ফলে বিল হবে অনুমানের উপর। বর্ষার জন্যই অপেক্ষা করে প্রকল্পের লুটপাট করার পরিকল্পনা করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প অনুযায়ী নদী দুটি ১০ ফুট গভীরতায় খননের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় মাত্র ২-৩ ফুট গভীর করে খনন করা হয়েছে। তাদের দাবি, বৃষ্টির আগে অল্প গভীর করে খনন করেই কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছিল, কারণ নদীতে পানি উঠলে প্রকৃত গভীরতা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ব্। গত তিনদিন প্রকল্প এলাকায় প্রচুর বৃষ্টি হয়। ফলে খননকাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটরগুলো নদীর তীরে তুলে নিয়ে যান চালকেরা এবং তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এবিষয়ে প্রকল্প এলাকার বাসিন্ধা ও উপদেষ্টা কমিটির সদস্য নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুন্ম সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মুজিবুর রহমান কাজল বলেন, আমাদের বৃদ্ধা আঙ্গুল গুজো করার ক্ষমতা কারোর নেই, আমরা ম্যানেজ করেই সব কিছু করছি। তিনি বলেন, আমার বাড়িতে মাটি দিয়ে পুকুর ভরাট করেছি, সরকারী মাটি ছিলো তাই নিয়েছি, এখানে সাংবাদিকদের মাথা কেন ? এটা সরকার দেখবে, ইউনুছ সরকার আমাকে কিছু করতে পারেনি, তোমরা লিখে কি করবা।
প্রকল্প অনুযায়ী নদী থেকে উত্তোলিত মাটি নদীর পাড়ে রাখার কথা থাকলেও তা অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, উত্তোলিত মাটি বিক্রি করেই খননকাজের ব্যয় মেটানো হচ্ছে। এবিষয়ে প্রকল্প কমিটির সদস্য নুরুল হোসেন নুর মিয়া বলেন, আমরা মাটি বিক্রি করেনি, কিছু লোক জোর করে মাটি নিয়ে গেছে, কেউ কেউ আমাদের কে বলে নিয়েছেন। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আওয়ামীলীগের নেতা কাজল তার বাড়ির একটি খাল ভরাট করার জন্য কিছু মাটি নিয়েছেন, শুধু কাজল কেন গ্রামের আরও অনেকেই মাটি নিয়ে ঘরবাড়ি পুকুর ভরাট করেছেন।
স্থানীয়দের মতে,উক্ত নদী দুটির প্রায় ২ থেকে ৩কিলো মিটার খনন কাজ করা হয়েছে। কিন্তু কোথায় প্রজেক্টের মাটি নেই সব মাটি বিক্রি অভিযোগ রয়েছে। আর প্রকল্প কমিটি বলছেন, লোকজন নিয়ে গেছে, বে সরকারী হিসাব মতে কয়েক লক্ষ ঘনফুট মাটি লুট হয়েছে। কিন্তু সরকারী মাটি নিলেও সরকারী কর্মকর্তারা কেন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এবিষয়ে এলাকার প্রবীন মুরব্বি বশির মিয়া বলেন, “সব কিছুই ম্যানেজ প্রক্রিয়াই হচ্ছে, আমরা করবো কি, গদা গরম বেশি বললে মাইর খাবো”।

এদিকে মাত্র ২-৩ ফুট গভীর করে খনন করলে কোনো স্থায়ী সুফল মিলবে না। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই নদী আবার ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নবীগঞ্জের দীগলবাক ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ হাসান দোলনকে সভাপতি করে শেরখাই ও নরখাই নদী খননের জন্য জাইকার ৬ কোটি ১২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প কমিটি গঠন করা হয়।
লটির পতনের পর বিএনপি, এনসিপি ও জাতীয় পার্টিও কয়েকজন নেতা প্রকল্পটির নিয়ন্ত্রণ নেন। তবে খননকাজ এখনো আগের যুবলীগ নেতা দোলনের গঠন করা কমিটির মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে বিল অনুমোদনের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিকরা খননকাজের ছবি তুলতে গেলে সাইটে উপস্থিত শাহান চৌধুরী নামে এক তরুণ তাদের বাধা দেন এবং মারমুখী আচরণ করেন।
কমিটির সভাপতি খালেদ হাসান দোলন বলেন, আমরা কিছু করি না সব করছেন প্রশাসনের লোকন, তাদের কথা মতো আমরা কাজ করছি, সরকারী মাটি কেউ নিলে সেটা তারা দেখবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মীর সাব্বির আহমেদ বলেন, বৃষ্টির পানি জমে থাকায় নদীতে এখন কাজ করা সম্ভব নয়। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সেচের মাধ্যমে পানি সরিয়ে আবার কাজ শুরু করা হবে। কত ঘনফুট মাটি কাটা হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,সরকারী মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার বিধান নেই। পানি হয়ে গেলে বিল হবে খননের অনুমানের উপর, এ বিষয়ে এখন কথা বলতে পারব না, অফিস এসে দেখা করুন কথা বলুন ।
এবিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুহুল আমীন বলেন, আমাদের অধীন নয় প্রকল্পটি, এটি জাইকা প্রকল্প তবুও খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবো।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৩:২১   ৮২ বার পঠিত  |      







শিরোনাম থেকে আরও...


বগা সেতু নির্মানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে মন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন
উলিপুরে ভূমি সেবা মেলা উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা
গোবিন্দাসী ৫ কোটি টাকার গরুর হাটের ইজারা মূল্য এখন অর্ধ কোটি!
ভেড়ামারায় ‘ভূমি সেবা মেলা বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন
বানিয়াচংয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস



আর্কাইভ