ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
বগা সেতু নির্মানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে মন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন উলিপুরে ভূমি সেবা মেলা উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা গোবিন্দাসী ৫ কোটি টাকার গরুর হাটের ইজারা মূল্য এখন অর্ধ কোটি! ভেড়ামারায় ‘ভূমি সেবা মেলা বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন বানিয়াচংয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস সাধু বাবার আস্তানায় ধর্ষণের শিকার নারী টানা দ্বিতীয়বার ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি সালথার বাবলুর রহমান খান নবাবগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহের উদ্বোধন বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক হলেন খোকন কলাপাড়ায় সৌদিপ্রবাসী নারীর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » রংপুর » উলিপুরের ক্ষীরমোহন এখন দেশ ছেড়ে বিদেশে

উলিপুরের ক্ষীরমোহন এখন দেশ ছেড়ে বিদেশে


উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


 উলিপুরের ক্ষীরমোহন এখন দেশ ছেড়ে বিদেশে

কুড়িগ্রাম: ভোজন প্রিয় মানুষের কাছে একটি ভোজন রসনার নাম উলিপুরের ক্ষীরমোহন। অনন্য এ মিষ্টান্ন ক্ষীরমহনের নাম ও স্বাদ এখন দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু দেশে নয় বিদেশেও এর সুখ্যাতি ছড়িয়েছে। এটি উলিপুরের আদি মিষ্টি না হলেও গত পঞ্চাশের দশকের শেষে অথাৎ ষাটের দশকের শুরুতে এর তৈরী ও বিপনন শুরু হয়। ওই সময় একটি ক্ষীরমোহনের দাম ছিল মাত্র ছয় আনা। কিন্ত এ অঞ্চলের অভাবী মানুষের ক্ষীরমোহন নামের মিষ্টি কিনে খাওয়ার মত সামর্থ ছিল না। সে কারনে তখন রেস্টুরেন্ট বা বাসাবাড়ীর খাবার টেবিলে এই মিষ্টান্নœটি জনপ্রিয় হয়নি। তবে তখন থেকেই এর স্বাদ ও গন্ধ ছিল জিভে জল আসার মত। আশির দশকে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সাথে পাল্লা দিয়ে এর জনপ্রিয়তা উলিপুর ছেড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। এখন এ মিষ্টির সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে দেশের গন্ডি পেরিয়ে এশিয়া ও আরব মহাদেশের বিভিন্ন দেশে। জানা যায়,ব্রিটেনের মহারানী এলিজাবেথ ও বঙ্গবন্ধশেখ মজিবুর রহমান এ মিষ্টি খেয়ে ভ’য়সী প্রশংসা করেছিলেন।
বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে জানা যায়,১৯৫৮ সালে তৎকালীন ফরিদপুরের গোয়ালন্দ থেকে সুধীর সরকার ওরফে সুধীর ময়রা নামক একজন মিষ্টির কারিগর উলিপুরে এসে মিষ্টির কারিগর হিসাবে চাকুরী নেন কছির মিয়ার(হালাই)র রেষ্টুরেন্টে। তার চাকুরী শর্ত্ত ছিল,তিনি এমন একটি ভিন্ন ধর্মী মিষ্টি তৈরী করবেন যাতে তার দোকানের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। তিনি মালিকের শর্ত্তে রাজি হন। কয়েক দিন সময় নিয়ে তৈরী করেন, ক্ষীরমোহন নামক এ মিষ্টি। প্রথম দিনেই ক্ষীরমোহনে বাজি মাত উলিপুর। পরে তার দেখা দেখি উলিপুরের প্রখ্যাত মিষ্টান্নের কারিগর মনমোহন হালাই তৈরী করেন ক্ষীরমোহন। ওই সময় আওয়ামী লীগ নেতা (সাবেক সংসদ সদস্য) বাবু কানাই লাল সরকার মনমোহন হালাইয়ের কাছ থেকে তৈরী করে নেন ক্ষীরমোহন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবেরর নামাস্কিত সন্দেশ উপহার হিসাবে বঙ্গবন্ধুর কাছে নিয়ে যান। বঙ্গবন্ধু সেই ক্ষীরমোহন খেয়ে ভ’য়সী প্রশংসা করেন।
সেই থেকে কুড়িগ্রাম জেলা ও বিভাগে সরকার প্রধান,মন্ত্রি বা বিদেশী অতিথী এলে তাদের খাবার টেবিলে বিশেষ খাবার হিসাবে ক্ষীরমোহন শোভা পেত। এবং কাজ বাগানোর জন্য উপহার হিসাবে প্যাকেট করে দেওয়া হত ক্ষীরমোহন। এ ভাবে ক্ষীরমোহন ভোজন রসনা প্রিয়দের কাছে প্রিয় খাবার হিসাবে সুখ্যাতি লাভ করে। এর পর আর পিছন ফিরিয়ে রতাকাতে হয়নি। দিন যত যাচ্ছে ক্ষীরমোহনের সুখ্যাতি ততই বাড়ছে। ইতালী প্রবাসী মোহাম্মদ নুর বলেন, তিনি ইতালী যাওয়ার সময় ক্ষীরমোহন নিয়ে যান। তার মত অনেক প্রবাসী ক্ষীরমোহন নিয়ে যান বলে রেষ্টুরেন্ট মালিকরা জানান।
নদী বেষ্টিত উলিপুরের চারদিকের চরাঞ্চলের ঘাস ও নানা প্রাকৃতিক গো-খাদ্য খেয়ে প্রতিপালিত গাভির খাটি গুনাগুন সমৃদ্ধ দুধের ছানা থেকে তৈরী ক্ষীরমোহন স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় । কারিগর মো. আল আমিন বলেন, খাটি ছানার তৈরী মিষ্টি প্রথমে গরম চিনির রসে জ¦াল দেওয়া হয়। মিষ্টি হয়ে এলে তা থেকে রস ঝরিয়ে দুধে জ¦াল দেওয়া হয়। দুধ ক্ষীরে পরিনত হলে ও মিষ্টির ভিতরে ক্ষীর ঢুকে গেলে এবং লালটে রং ধারন করলেই তৈরী হয় লোভনীয় ক্ষীরমোহন। এক মন দুধ থেকে ১৫/২০ কেজি ক্ষীরমোহন হয়। এখন দেশে বিদেশে উলিপুরের নাম নেয়ার আগেই ক্ষীরমোহনের নাম নেন। জেলার ব্যান্ডিং এর তালিকায় ক্ষীরমোহন নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
উলিপুরে ওকে হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্ট,পাবনা হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্ট, মেজবান হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্ট, আল স্বাদ হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্ট, আল আমিন হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্ট,মৌসুমী হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্টসহ ১০টি রেষ্টুরেন্টে প্রতি দিন প্রায় ১০ থেকে ১২ মন ক্ষীরমোহন বিক্রি হয়। প্রতি পিচ ৪০ টাকা। ৪০০ টাকা কেজি হিসাবে ১ লাখ ৬০ হাজার মন। সেই হিসাবে মাসে ৪৮ লাখ এবং বছরে ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ক্ষীরমোহন বিক্রি হয় বলে রেষ্টুরেন্ট মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। এর মধ্যে উলিপুরের সুপরিচিত ওকে হোটেল এন্ড রেন্টুরেন্টের মালিক মো. শামছুল আলম বলেন,তিনি সর্ব”্ছ প্রতি দিন ১২০ কেজি ক্ষীরমোহন বিক্রি করেন।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:১৪:৩৪   ২৭ বার পঠিত  |   







রংপুর থেকে আরও...


উলিপুরে ভূমি সেবা মেলা উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা
আগুন-লোহার টুংটাং শব্দে মুখর চারপাশ,দম ফেলানো সময় নেই কামারশালয়
নীলফামারীর খোকশাবাড়ী ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ
রাজারহাটে জাতীয় বিজ্ঞান- প্রযুক্তি সপ্তাহ
উলিপুরের ক্ষীরমোহন এখন দেশ ছেড়ে বিদেশে



আর্কাইভ