ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
খুলনা: কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে সময়মতো চিকিৎসক না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত দুই মাস বয়সী শিশু মুয়াজ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর এ অভিযোগ করেন তার স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, হাসপাতালে নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা পাননি তাঁরা। মুয়াজ আব্দুল্লাহ কয়রা উপজেলার বেদকাশী কলেজিয়েট স্কুলের প্রভাষক মাসুম বিল্লাহর সন্তান।
শিশুটির মামা রাকিব হাসান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মুয়াজ কান্নাকাটি করছিল। অবস্থার অবনতি হলে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাকিব হাসানের ভাষ্য, জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা বাইরের ওষুধের দোকান থেকে দুটি ওষুধ আনতে বলেন। ওষুধ এনে দেওয়ার পর শিশুটিকে নেবুলাইজার দেওয়া হয়। এরপর চিকিৎসক এসে তাকে দেখবেন বলে জানানো হয়। তবে সকাল নয়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো চিকিৎসক শিশুটিকে দেখতে আসেননি বলে দাবি করেন তিনি। পরে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিৎসককে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। তাঁর নাম তমালিকা বলে জানা গেছে। এ সময় তিনি রোগী দেখছিলেন। তবে সেখানে অন্য কোনো চিকিৎসককে দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৯টি। কিন্তু নামমাত্র চার-পাঁচজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন। এতে জরুরি রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, চিকিৎসকসংকটের পাশাপাশি হাসপাতালটিতে অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসুবিধারও ঘাটতি রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজনের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে তাঁদের বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়। মো. আল আমিন বলেন, “শিশু কিংবা অন্য কোনো রোগী নিয়ে হাসপাতালে গেলে ঠিকমতো সেবা পাওয়া যায় না। চিকিৎসকেরা তাঁদের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।”
কয়রা উপজেলা সদর থেকে খুলনা শহরের দূরত্ব বেশি হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় নিতে হয়। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ এবং জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম রাজীবের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫৫:২১ ১১ বার পঠিত | ● কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ● কয়রায় চিকিৎসক সংকট ● শিশু মুয়াজ আব্দুল্লাহর মৃত্যু