ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুড়িগ্রাম: এক গ্রামে ৭টি ইট ভাটাসহ ২৫টি লাইসেন্স বিহীন অবৈধ ভাটা গিলে খাচ্ছে কৃষি জমি,খাল বিল জলাশয় ও কৃষি জমির উপরি ভাগ উরবর মাটি। কমছে কৃষি জমি, কমছে ফলফলাদি ও ফসলের উৎপাদন। পরিবেশের এমন বিপর্য়য়ের ফলে ভাটার গ্রাম গুলোর মানুষজন ভুগছে নানা রোগ ব্যাধিতে। তবুও প্রশাসন চোখ বুঝে থাকায় এলাকার
মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে অবৈধ ভাটা উচ্ছেদ না করায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসককে শ্বশরীলে হাজির হয়ে জবাব দেওয়া জন্য তলব করেছে হাইকোট। গত ২ মাস আগে হাইকোট সকল অবৈধ ইট ভাটা উচ্ছেদের নির্দেশ প্রদান করে । এমন নির্দেশের পরও পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন ভাটা উচ্ছেদ না করে, মোবাইল কোট পরিচালনা করে অবৈধ ভাটায় জরিমানা করে আই ওয়াস করছেন বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ।
পরিবেশ অধিদপ্তর কুড়িগ্রাম অফিস সুত্রে জানা গেছে, উলিপুর উপজেলায় ২৫টি ইট ভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি ভাটার লাইসেন্স রয়েছে। বাকী ২০টির কোন লাইসেন্স বা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড় পত্র নাই। আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাগীর আলম বলেন, ভাটার কারনে আমাদের ফসলের উৎপাদন বিপর্যয় ঘটেছে। গাছে কোন ফল মুল হচ্ছে না। ভাটার মৌসুমে জ্বর সর্দি ও চর্ম রোগ ব্যাধী সব সময় লেগে থাকে। পাশ্ববর্তী গ্রাম গুলোতে ও একই অবস্থা। এম আর বি ইট ভাটার মালিকের ছেলে ফুয়াদ হাসান মৃদুল বলেন, ২০১৫ সালে পরিবেশের ছাড় পত্র চেয়ে আবেদন করেছি। কিন্ত ছাড়পত্র দিচ্ছে না। তবে ফায়ার লাইসেন্স, বিএসটি আই ও ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। মাঝে মাঝে স্থানীয় প্রশাসনকে বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্টানের জন্য ডোনেশন দিতে হয় বলে জানান তিনি।
এসএবি ইট ভাটার মালিক মো. আবেদ আলী বলেন,আমার বৈধ লাইসেন্স আছে। সে কারনে আমার কাছে প্রশাসন কোন প্রকার ডোনেশন বা চাঁদা নেন না। তাছাড়া আমার ইটেরস সেফ সাইজ পরিবেশের মাফ অনুযায়ী তৈরী করছি।
কুড়িগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো.রেজাউল করিম বলেন, হাইকোট ২ মাস আগে অবৈধ ইট ভাটা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ প্রতিপালন না করায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকসহ ৩ জেলা প্রশাসক, ৩ বিভগিীয় কমিশনার ও ২ ইউএনওকে তলব করেছে হাইকোট। ইতোমধ্যে উলিপুরে ২টি ভাটায় অভিযান করে ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, কৃষি জমিতে ইট ভাটা হয়েছে । তবে আমার সময় হয়নি। ভাটার কারনে প্রায় এক শত একর আবাদী জমি কমেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা বলেন, হাইকোটের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ ইট ভাটা গুলোর কার্যক্রম বন্ধের নোটিশ গত ২ ফেব্রয়ারী দেওয়া হয়েছে। তবে অনুষ্টানের নামে ডোনেশন দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছাঃ নুসরাত সুলতানা বলেন, হাইকোট থেকে তাকে তবলব করা হয়েছে। উলিপুরের কি অবস্থা তা তিনি জানেন না। বিষয়টি দেখছি। তবে অবৈধ ভাটা উচ্ছেদ বা বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এস/এন
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৪৫:২২ ৩৫০ বার পঠিত | ● ইট ● উলিপুর ● ভাটা ● হাইকোট