ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » রংপুর » এক লগে দুই ফসল করে অহন হামরা স্বাবলম্বী

এক লগে দুই ফসল করে অহন হামরা স্বাবলম্বী


মোন্নাফ আলী,উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫


এক লগে দুই ফসল করে অহন হামরা স্বাবলম্বী

কুড়িগ্রাম: তিস্তা চরে এক লগে দুই ফসল(সাথী ফসল) করে হামরা অহন সাবলম্বী হইছি। অহন আর আমগোর না খায়া থাকন লাগে না। এক দিন তিস্তা নদী আমাগোর সব কিছু কাইরা লইছিল। সেই ভাঙ্গনের জমিতে পলি জমে অহন সোনা ফলতাছে। চরের জমি অহন সোনা হইছে কেউ ব্যাচে (বিক্রি) না। বছরে ৩টা ফসল করতাছি। অহন খালি চিন্তা নদী যেন আমাগোর চরটা না ভাঙ্গে। এভাবে কথা গুলো বলছিলেন অর্জুনের চরের কৃষক আতিকুর রহমান। ২ একর জমিতে আগুর আলু করে,পরে পেয়াজ ও লগে(সাথে) বাদাম লাগাইছি সব খরচা বাদ দিয়াও লাখ টেকা পামু বলে তার আশা।
শেখের খামার চরের কৃষক মো. লাল মিয়া বলেন,বন্যার পরে আমন ধান রোপন করি। ধান কেটে আগাম আলু লাগাই। আলু তুলে পিয়াজ ও সাথে বাদাম চাষ করেছি। ফলন ভাল পাইছি। চরে বছরে ৩ মাস পানি থাকে। বাকী ৯ মাসে ৪টি ফসল করে আমরা খুব লাভবান হইছি। পিয়াজ,বাদাম ও ধানের দামও ভাল। এখন চরের মানুষের অভাব নাই। শুধু চিন্তা নদী কখন যে চরটা ভাঙ্গে।

আতিকুর রহমান ও লাল মিয়ার মত কৃষক এরশাদুল হক ও মো.মোস্তফা বলেন, অল্প খরচে ভাল ফসল উৎপাদন হয়। আগে চরে বিদ্যুৎ সেচ সুবিধা ছিল। কিন্ত নদী ভাঙ্গনে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়ায়, ডিজেল সেচ নির্ভর হওয়ায় বিম্বনায় পড়েছেন। খরচ বেশী হলেও ডিজেল সেচেই ভরসা। তিনি ২ বিঘা জমিতে পিয়াজ ও সাথী ফসল বাদাম চাষ করেছেন। পিয়াজ পেয়েছেন ১১০ মন,বাজার মুল্য লক্ষাধিক টাকা। বাদাম হবে ১৫ মন যার মূল্য ৪৫ হাজার টাকা। সব মিলে দেড় লাখ টাকা বিক্রি হবে। তার খরচ হয়েছে ৩০/৩৫ হাজার টাকা। আলু বিক্রি করেছেন এক লাখ টাকা। চরের আবাদ এখন লাভের উপর লাভ। এখন কেউ চর ছাড়তে চায় না। চরবাসিদের একটাই দাবী পুর্নরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তিস্তা মহা-পরিকল্পনা বাস্থবায়ন।
গত রবিবার তিস্তার চর নাটশালা, অর্জুন,জোয়ানসেতরা,চর কিশোরপুর ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা আলু তুলে সেই জমিতে পিয়াজ ও বাদাম লাগিয়েছে। এখন পিয়াজ তোলা হচ্ছে। শেষ ফসল হিসাবে থাকছে বাদাম যা বন্যার পুবেই তোলা হবে। চরের দিগন্ত জুড়ে সবুজ বাদামের ক্ষেত। কৃষকরা জানালেন, বছরের ৩ মাস বন্যার পানিতে চর গুলো ডুবে যায়। পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে আমন ধান রোপন করেন। ধান কেটে আগাম আলু লাগান। আলু তুলেই,পিয়াজ ও সাথে বাদাম রোপন করেন। এক চাষে,এক খরচে ছয় মাসে লাগাতার ৩টি ফসল উঠে আসে। চরের ফসলে রোগ বালাই কম,ফলন ভাল ও উৎপাদন খরচও কম। সাথী ফসল করে তারা দ্রুুত স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
কৃষি বিভাগ জানায়,চলতি মৌসুমে পিয়াজের লক্ষ্যমাত্রা ৫৬০ হেক্টর,ও বাদাম ৩৬০ হেক্টর নির্ধারন করা হয়েছে। যার প্রায় পুরোটাই অর্জিত হয়েছে।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, আবাদী জমির স্বপ্লতা, মাটির উরবরতা বৃদ্ধি ও অল্প জমি চাষ করে আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পিয়াজ ও রসুন ক্ষেতে সাথী ফসল বাদাম চাষ কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আমরা কৃষকদের উন্নত বীজ, সার ও পরামর্শ দেই। কৃষকরা সাথী ফসলের সুফল পেয়ে খুব খুশি।

আর/ এস

থেতরাই ইউপি চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান বলেন,চরের মানুষ অনেক সুখি। চর যেন তাদের কাছে সোনার ক্ষনি। তাই তারা বন্যাই হলেও চর ছাড়তে চায় না। চরের জমিতে ৯ মাস ধানসহ বিভিন্ন জাতের ফসল আবাদ করে। তাদের দুঃখ শুধু নদী ভাঙ্গন ও বন্যা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, আমরা তো কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করি। অল্প জমিতে এক সাথে দুটো ফসল কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে তাই চর গুলোতে সাথী ফসল চাষ কৃষক প্রিয় হয়েছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩৪:৫১   ২০১ বার পঠিত  |      







রংপুর থেকে আরও...


অভিযোগ ধামাচাপা দিতে পাইলট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দৌড়ঝাঁপ
পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
অবৈধ সার ব‍্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
রমজানে পীরগঞ্জে বাজার বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম
উলিপুরে সাংবাদিকদের সাথে ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর মতবিনিময়



আর্কাইভ