ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
সিলেট: হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ সুজাত মিয়ার ওপর একদিনে দুটি পৃথক ঘটনা ঘটেছে দুপুরে হামলা ও রাতে বাসায় অগ্নিকা-। বিএনপি নেতাকর্মীরা একে পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। পুরো নবীগঞ্জ জুড়ে এ ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
পুর্ব বিরোধের জের ধরে এসব হামলা ও আগুনের ঘটনা ঘটছে কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এব্যাপারে সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়ার চাচাতো ভাই শেখ শিপন মিয়া বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। মামলায় কোন রাজনৈতিক পদদারী নেতাকে আসামি করা হয়নি। মামলার আসামি সবাই ঘটনাস্থল তিমিরপুর গ্রামের বাসিন্ধা।
জানা যায়- ১ মে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে নবীগঞ্জ-হবিগঞ্জ সড়কের তিমিরপুর এলাকায় নবীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিকদলের উদ্যোগে আয়োজিত র্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন শেখ সুজাত মিয়া। অনুষ্ঠান শেষে দুপুরের দিকে গাড়িতে ওঠার সময় হঠাৎ করে মৃত আহমদ মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা জামির হোসেনসহ কয়েকজন যুবক দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। শেখ সুজাত মিয়ার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুললে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে।
খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারী জামিরকে অস্ত্রসহ আটক করে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা দেখা দেয়। শেখ সুজাত দাবি করেন, “এই হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। আমাকে টার্গেট করেই অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।”
হামলার প্রতিবাদে বিকেলেই নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে মিছিলটি নতুন বাজার মোড়ে গিয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় বক্তারা হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়ার চাচাতো ভাই উপজেলা যুবদল নেতা শেখ মো. শিপন মিয়া বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত হামলাকারী পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের জামির হোসেন রানা (৪২) কে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিরা হলেন মৃত আহমদ মিয়ার ছেলে ইউসুফ মিয়া (৩৬), ছাদির মিয়া (২৮), আলতাব আলীর ছেলে আব্দুর রশীদ (৫০), আব্দুর রশীদের ছেলে মামুন মিয়া (৩০), ফিরোজ মিয়ার ছেলে ছালেক মিয়া (৩০), পশ্চিম তিমিরপুর গ্রামের নূর উদ্দিনের ছেলে শরিফ মিয়া (২৭) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬। মামলার মধ্যে বলা হয়েছে হামলা কারী সবাই আওয়ামীলীগের লোক। সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা তিমিরপুর গ্রামের কাছে গেলে তারা হামলার চেষ্টা চালায়। এবিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কেন হামলা বিষয় বস্তু তদন্ত করে বাহির করা হবে।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ কামাল হোসেন জানান, মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া তিনি বলেন, রাতে অগ্নিকা-ের খবর পেয়ে “আমরা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছি। আগুন কীভাবে লেগেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।”
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর, রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শেখ সুজাত মিয়ার নবীগঞ্জ শহরের হাসপাতাল সড়কের আক্রমপুর এলাকার নিজ বাসায় অগ্নিকা- ঘটে। আগুন লাগে বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে, যেখানে কেউ বসবাস করতেন না। আগুনে কিছু আসবাবপত্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
স্থানীয়দের চিৎকারে দ্রুত আশপাশের মানুষ এগিয়ে এসে আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকা-ের খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. কামাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, “আমরা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছি। আগুন কীভাবে লেগেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।”
সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া এ বিষয়ে বলেন, “গতকালই আমার ওপর হামলা হয়েছে, আর আজ রাতে বাসায় আগুন লাগানো হলো। এটি নিঃসন্দেহে একটি ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আমার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।”
হবিগঞ্জ -১ আসনের সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া বলেন- শ্রমিকদলের উদ্যোগে শ্রমিক দিবসের আলোচনা সভা ও র্যালী শেষে গাড়িতে ওঠার সময় কয়েকজন যুবক পিস্তল,দেশীয় অস্ত্রসহ আমার উপর হামলা চালায়। এসময় আমার সঙ্গে নেতাকর্মী থাকায় আমি অল্পের জন্য রক্ষা পাই। পরে পুলিশ হামলাকারীদের মধ্যে ১ জনকে অস্ত্রসহ আটক করে। তিনি তার বাসায় আগুনের কথার সত্যতা স্বীকার বলেন এই বিষয়ে পরে কথা বলবেন।
এবিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়ার বিশেষ সহকারী মোস্তফা আল হাদী বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়ার বাসায় কে-বা কারা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। দিনে তার উপর হামলা হয়েছে, রাতে বাসায় আগুন এটা আসলেই দুঃখ জনক। আমরা বিষয়টি নিয়ে আতংকের মধ্যে আছি।
এ দুটি ঘটনায় নবীগঞ্জ ও হবিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে কেন এই হঠাৎ হামলা ও রহস্যজনক আগুনের ঘটনা উৎপত্তি হলো।
এই বিষয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত হামলাকারী পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের জামির হোসেন রানা (৪২) ও তার পরিবারের সবাই পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:৪৯:২৫ ১৭৮ বার পঠিত | ● গ্রেফতার ● নবীগঞ্জ ● বাহুবল ● মামলা